কলকাতা টাইমস নিউজ ডেস্ক:

জামশেদপুরের ব্যবসায়ী নিখর সবলোক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার কলকাতার যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন রহস্য। বহুচর্চিত এই খুনের তদন্তে এবার গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুলিশের বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডের এক সার্জেন্ট এবং একই গার্ডের এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার। শুক্রবার ঝাড়খণ্ড পুলিশ কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাসকে গ্রেপ্তার করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদসূত্রে খবর। বৃহস্পতিবার তাঁদের লালবাজারে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, হেফাজতে থাকা মূল অভিযুক্তদের সঙ্গে কলকাতার এই দুই পুলিশকর্মীর যোগাযোগের সূত্র পাওয়া গিয়েছে এবং সেই যোগাযোগের প্রকৃতি খতিয়ে দেখতেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তবে এখানেই শেষ নয়। তদন্তের নতুন এই পর্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—একজন কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক সার্জেন্ট এবং একজন সিভিক ভলান্টিয়ার কীভাবে ঝাড়খণ্ডের একটি সুপরিকল্পিত ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের নাগালের মধ্যে এলেন? তাঁরা কি শুধুই পরিচিত ছিলেন, নাকি হত্যাকাণ্ডের পরে অভিযুক্তদের কলকাতায় আশ্রয় দেওয়ার মতো কোনও ভূমিকা ছিল? ঝাড়খণ্ড পুলিশের তদন্ত এখন মূলত সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধৃত মূল অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে অয়ন গুপ্তের যোগাযোগের প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে পুলিশের দাবি। মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গেও যোগাযোগের সূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন।

গত ২৪ অগস্টের দুপুর। সরাইকেলা-খরসওয়াঁ জেলার চাণ্ডিল থানার অধীন এনএইচ-৩৩-এর পাশে ‘টেনথ মাইলস্টোন’ এলাকার কাছে গুলির শব্দে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন জামশেদপুরের কদমা এলাকার ব্যবসায়ী নিখর সবলোক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ৩৫ বা ৩৭ বছর বলা হয়েছে। তিনি হোটেল ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে জামশেদপুরের টাটা মেন হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্ত থেকেই পুলিশ মনে করেছিল, এটি সাধারণ অপরাধ নয়; পরিকল্পনা করেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে ব্যবসায়িক বিরোধ এবং জমি-সংক্রান্ত বিবাদকে গুরুত্ব দেয়। ‘টেনথ মাইলস্টোন’-এর কাছে প্রায় সাড়ে তিন একর জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই জমিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছিল। নিখর ওই জমি নিয়ে ব্যবসায়িক পরিকল্পনাতেও যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন। একই সঙ্গে পুরনো শত্রুতা এবং দুই অপরাধী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা শুরু হয়।

নিখর হত্যার পর জামশেদপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপার এতেশাম ওয়াকারিবের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়। পূর্ব সিংভূম এবং সরাইকেলা-খরসওয়াঁ জেলার পুলিশ একসঙ্গে তদন্তে নামে। তদন্তের সূত্র ধরে ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অশোক সিং ওরফে রাঘব, সুনীল রজক, রীতেশ সিং, সুশীল কেরাই, রাজকুমার সিং ওরফে শুটার সিং এবং অঙ্কিত সিং। পুলিশ তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে মূল ষড়যন্ত্র এবং শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে।

তদন্তের অগ্রগতিতে উঠে আসে সুপারি কিলিংয়ের অভিযোগ। পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হয়েছিল, উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের দুই শুটারকে ব্যবহার করে নিখরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এর জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী তদন্ত ও অভিযুক্ত অশোক সিং রাঘবের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে আবার ২০ লক্ষ টাকার সুপারি এবং প্রথমে তিন শুটারকে আনার কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে টাকার অঙ্ক নিয়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক নথিতে পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তের দাবিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের মতে, হত্যার আগে বেশ কয়েকদিন ধরে নিখরের গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়েছিল। প্রকাশিত পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, শুটারদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল জামশেদপুরের বিভিন্ন এলাকায়। তাঁরা নিখরের বাড়ি, যাতায়াতের রাস্তা এবং ‘টেনথ মাইলস্টোন’-এর আশপাশে রেকি চালিয়েছিলেন। ঘটনার দিন নিখর হোটেল এলাকায় পৌঁছনোর পর তাঁকে অনুসরণ করে আততায়ীরা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছয়। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালিয়ে দ্রুত গাড়িতে চেপে পালিয়ে যায়। পুলিশ সেই গাড়িটি পরবর্তীতে উদ্ধার করে।

ঘটনার তদন্তে CCTV ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে একাধিক অভিযুক্তের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযুক্তদের জেরা করে তদন্তকারীরা হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা, শুটারদের যাতায়াত, গাড়ির ব্যবহার এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের নানা দিক সম্পর্কে তথ্য পান। তদন্তে দুই অপরাধী গোষ্ঠীর পুরনো দ্বন্দ্বের কথাও সামনে আসে। তবে পুলিশ নিজেই জানিয়েছে, গ্যাংওয়ারের যোগ আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

এই মামলায় অখিলেশ সিংয়ের নামও তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে দুমকা কেন্দ্রীয় জেলে রয়েছেন। অখিলেশের সঙ্গে অপরাধী জগতের পুরনো যোগাযোগ এবং অন্য একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের সন্দেহ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে পুরনো অপরাধী গোষ্ঠীর শত্রুতাও কোনও না কোনওভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করতে পারে। তবে এই যোগের প্রতিটি স্তর এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

এর মধ্যেই তদন্তের সবচেয়ে বড় মোড় আসে কলকাতায়। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তদন্তকারী দল কলকাতায় এসে লালবাজারে কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক প্রশ্নের উত্তরে অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিয়োগ্রাফ করা হয়। এরপর শুক্রবার তাঁদের গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়।

অয়ন গুপ্ত বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডে কর্মরত ছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারও একই ট্র্যাফিক গার্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা অভিযোগের মূল বিষয় হল, নিখর হত্যাকাণ্ডে ধৃত অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের পর কলকাতায় অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার সম্ভাবনা। তবে তাঁদের কেউ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন কি না, সেই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

এই গ্রেপ্তারির পর তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এখন তদন্তকারীদের সামনে শুধু ‘টেনথ মাইলস্টোন’-এর সামনে নিখরকে গুলি করার ঘটনাই নয়, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কলকাতার সঙ্গে অপরাধী চক্রের যোগাযোগের সম্ভাব্য নেটওয়ার্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অয়ন গুপ্তের সঙ্গে অশোক সিং রাঘবের কথোপকথন বা যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল, তা থেকে হত্যাকাণ্ডের কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল কি না এবং কলকাতায় কোনও অভিযুক্তকে লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কোনও সহায়তা করা হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।

অন্যদিকে কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সার্জেন্টের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। যদিও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।

এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হত্যার উদ্দেশ্য। প্রথম পর্যায়ে পুলিশ জমি-সংক্রান্ত বিবাদকে মূল কারণ হিসেবে দেখেছিল। পরে পুরনো অপরাধী শত্রুতা এবং কথিত গ্যাংওয়ারের যোগ সামনে আসে। পরবর্তী তদন্তে অশোক সিং রাঘবের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিক্রম শর্মার হত্যার বদলার তত্ত্বও উঠে এসেছে। তবে পুলিশের প্রকাশ্য বক্তব্যে এখনও জমি-বিরোধ এবং পুরনো শত্রুতার বিষয়টি সমান্তরাল তদন্তের অংশ। ফলে নিখরের হত্যার চূড়ান্ত মোটিভ সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।

নিখর হত্যাকাণ্ড তাই এখন আর শুধুমাত্র জামশেদপুরের একটি ব্যবসায়িক বিবাদে সীমাবদ্ধ নেই। তদন্তের সূত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড—একাধিক রাজ্যে ছড়িয়েছে। উদ্ধার হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা গাড়ি, আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী। অভিযুক্তদের মোবাইল যোগাযোগ এবং গতিবিধি বিশ্লেষণ করে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে তদন্তকারীরা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—নিখর সবলোককে কেন খুন করা হয়েছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা গোটা নেটওয়ার্কের শেষ প্রান্ত কোথায়? জমির বিবাদ, পুরনো গ্যাং-শত্রুতা, সুপারি কিলিং এবং কলকাতার দুই পুলিশকর্মীর সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ—প্রতিটি সূত্র এখন একই তদন্তের অংশ। অয়ন গুপ্ত ও টুইঙ্কল দাসের গ্রেপ্তারির পর সেই জট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপেই হয়তো স্পষ্ট হবে, কলকাতার এই যোগাযোগ নিছক পরিচয়ের সীমায় ছিল, নাকি নিখর হত্যাকাণ্ডের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখন নজর আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের তদন্তের দিকে। বিশেষ করে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুই পুলিশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কী নতুন তথ্য সামনে আসে, তাঁদের সঙ্গে ধৃত অপরাধীদের যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে তাঁরা কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছিলেন কি না—সেই উত্তরই বদলে দিতে পারে গোটা মামলার তদন্তের গতিপথ।

 

Major Twist in Jamshedpur Businessman Murder Case: Kolkata Police Traffic Sergeant and Civic Volunteer Arrested

 

The investigation into the murder of Jamshedpur businessman Nikhar Sablok has taken a dramatic turn with the arrest of a Kolkata Police traffic sergeant and a female civic volunteer by Jharkhand Police.

Sergeant Ayan Gupta of the Beliaghata Traffic Guard and civic volunteer Twinkle Das were arrested on Friday after being questioned for several hours at Lalbazar, the headquarters of Kolkata Police. According to reports, investigators were examining their alleged communication with suspects already arrested in the murder case. Police are also investigating whether any accused person involved in the murder was provided shelter in Kolkata.

The arrests have added a new Kolkata connection to a murder that initially appeared to be linked to a business and land dispute in Jharkhand.

Nikhar Sablok was shot dead on August 24 near the 10th Milestone area along NH-33 under Chandil police station in Seraikela-Kharsawan district. He was reportedly a businessman involved in hotel and real estate activities. He was taken to Tata Main Hospital in Jamshedpur after being shot but succumbed to his injuries.

Police subsequently formed a Special Investigation Team and launched raids across Jharkhand as well as Uttar Pradesh West Bengal and Bihar. Six people were arrested during the investigation including Ashok Singh alias Raghav Sunil Rajak Ritesh Singh Sushil Kerai Raj Kumar Singh alias Shooter Singh and Ankit Singh. Police recovered weapons and a vehicle allegedly used in the crime.

The investigation initially pointed towards a dispute over approximately 3.5 acres of land near the 10th Milestone Resort. Police also began examining the possibility of an ongoing rivalry between criminal groups associated with Akhilesh Singh and Ganesh Singh.

Police later claimed that the killing was carried out as a contract killing. Earlier police statements referred to a payment of around Rs 15 lakh for the murder. Subsequent reports based on the interrogation of alleged mastermind Ashok Singh Raghav mentioned a Rs 20 lakh contract and an earlier plan involving three shooters. Since different stages of the investigation have produced different figures the final amount remains a matter for the investigating agency to establish.

Investigators believe that the shooters conducted surveillance before the murder. Police also traced movements through CCTV footage and mobile call records. The alleged shooters were reportedly brought to Jamshedpur and arrangements were made for their accommodation and transportation before the attack.

The case subsequently acquired a wider criminal-network angle. The name of gangster Akhilesh Singh who is currently lodged in Dumka Central Jail has surfaced during the investigation. Police are examining whether the murder was connected not only to the land dispute but also to longstanding gang rivalry and past enmity.

The Kolkata connection emerged during the investigation after Jharkhand Police allegedly found communication between one of the arrested suspects and Kolkata Police Sergeant Ayan Gupta. Investigators also reportedly found contact between the suspect and the female civic volunteer attached to the Beliaghata Traffic Guard. The two Kolkata Police personnel were summoned to Lalbazar and questioned for several hours before their arrest.

The exact role of the two Kolkata Police personnel in the murder has not yet been publicly established. The investigation is currently focused on determining whether their alleged contacts were merely personal associations or whether they had any connection with the wider conspiracy or the alleged sheltering of suspects after the murder.

The case has therefore expanded from a local Jamshedpur business dispute into a multi-state criminal investigation involving alleged contract killers old gang rivalries land disputes and now a possible Kolkata connection involving police personnel.

The next stage of the investigation is expected to focus on the communication records of the arrested Kolkata Police personnel their links with the accused and the circumstances surrounding the alleged movement or sheltering of suspects in Kolkata.

For now the central question remains whether the Kolkata connection was incidental or whether it forms part of the larger conspiracy behind the murder of Nikhar Sablok.