কলকাতা টাইমস নিউজ ডেস্ক:
প্রায় ৮০ জন উদ্ধার, মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও; পরিচয় শনাক্তকরণ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ?
কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটে পাঁচতলা একটি হোটেল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে আগুন লাগার পর ঘন ধোঁয়ায় দ্রুত ভরে যায় ভবনের একাধিক অংশ। ঘুমন্ত অবস্থায় আটকে পড়া আবাসিকদের উদ্ধারে দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তৎপর হয়। প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নয়জনের প্রাণ রক্ষা করা যায়নি। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মৃতদের মধ্যে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিক থাকার কথা উঠে এসেছে।
মৃতদের পরিচয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে শিলিগুড়ির ৬৮ বছর বয়সি যোগনারায়ণ আগরওয়াল এবং ১৯ বছরের সন্দীপ পাসোয়ানের নাম রয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন আক্রম আলি, দেবাশিস দত্ত, আফসানা শিরমিন, স্বর্ণাশিস দত্ত এবং বাবু আহমেদ। তবে মৃতদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সরকারি নথির ভিত্তিতেই সম্পূর্ণ তালিকা নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশি নিহতদের মধ্যে কয়েকজন একই পরিবারের সদস্য বলে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেবাশিস দত্ত, আফসানা শিরমিন এবং তাঁদের শিশুসন্তান স্বর্ণাশিস দত্ত একই পরিবারের বলে জানা যাচ্ছে। কুষ্টিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ঠিকানাও প্রাথমিকভাবে সামনে এসেছে। তাঁদের অনেকেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায় ভবনের ঘিঞ্জি কাঠামো, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব এবং সংকীর্ণ বেরোনোর পথের কারণে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কয়েকটি কক্ষে জানলা না থাকার বিষয়টিও উদ্ধারকার্যে সমস্যার সৃষ্টি করে বলে জানা গিয়েছে। আগুনের সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া অনেকের জন্য আগুনের শিখার থেকেও বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত তথ্যেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনুমোদিত ব্যবহার, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং একাধিক হোটেল একই ভবনে পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না—সবকিছুই তদন্তের আওতায় এসেছে।
এই পরিস্থিতিতেই নিউ মার্কেট থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা শুরু করেছে এবং তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের ইনস্পেক্টর পৃথ্বীরাজ ভট্টাচার্য। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অ্যান্টি রাউডি স্কোয়াডের ইনস্পেক্টর সরফরাজ আহমেদ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের হোমিসাইড স্কোয়াডের ওসি শুভদীপ চক্রবর্তী, অ্যান্টি চিটিং সেকশনের সাব-ইনস্পেক্টর উৎপল ঘোষ এবং নিউ মার্কেট থানার সাব-ইনস্পেক্টর সোমনাথ কর।
তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। ভবনটির বৈধ অনুমোদন ছিল কি না, হোটেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না, জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে আসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না এবং আগুন লাগার পর উদ্ধারকাজে কোথায় কোথায় সমস্যা হয়েছিল—এসবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুনের প্রকৃত কারণের পাশাপাশি কোনও ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঘটনার পর কলকাতা পুরসভাও শহরের বাণিজ্যিক ভবনগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনার পথে হাঁটছে। পুরসভার তরফে বরো-ভিত্তিক অডিট ও পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক ভবন, হোটেল, মার্কেট, মল এবং যেখানে নিয়মিত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়, সেসব জায়গায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য অনুমোদন খতিয়ে দেখা হবে।
এই উদ্যোগের তাৎপর্য যথেষ্ট। কারণ মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো মধ্য কলকাতার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহু পুরনো ভবন, সরু রাস্তা, পাশাপাশি একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিপুল মানুষের আনাগোনা রয়েছে। ফলে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আগুন নেভানোর পাশাপাশি দ্রুত মানুষকে নিরাপদে বের করে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক কলকাতার একাধিক অগ্নিকাণ্ডের পর আবারও সামনে এসেছে একই প্রশ্ন—নিয়ম থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ কতটা হচ্ছে?
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনা নয়। এটি কলকাতার নগর-নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে একটি বড় সতর্কবার্তা। হোটেল বা অতিথিশালায় থাকার সময় একজন মানুষ যে নিরাপত্তার উপর নির্ভর করেন, সেই নিরাপত্তা যদি ভবনের কাঠামোগত ত্রুটি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব কিংবা জরুরি নির্গমনপথের সংকটে প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে তার মূল্য দিতে হয় মানুষের জীবন দিয়ে।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের রাতের আগুন তাই এখন তদন্তের অপেক্ষায়। SIT-এর রিপোর্টে কী উঠে আসে, ভবনটির অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং সেই গাফিলতির জন্য কারও দায় নির্ধারিত হয় কি না—সেদিকেই এখন নজর। একই সঙ্গে পুরসভার অডিট কতটা কার্যকর হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অগ্নিকাণ্ডের পরে পরিদর্শন নয়, আগুন লাগার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়াই পারে পরবর্তী প্রাণহানি ঠেকাতে।
কলকাতার ব্যস্ততম অংশে এই মর্মান্তিক রাত আবারও মনে করিয়ে দিল—আগুনের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু দমকলের কাজ নয়। নিরাপদ ভবন, কার্যকর নির্গমনপথ, নিয়মিত পরিদর্শন, বৈধ অনুমোদন এবং কঠোরভাবে নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করা—সবকিছুর সমন্বয়েই তৈরি হয় একটি সত্যিকারের নিরাপদ শহর।
Kolkata Hotel Fire: Nine Dead as SIT Probes Safety Lapses and Building Compliance !
Kolkata Times News Desk:
At least nine people were killed in a devastating fire at a five-storey hotel building on Mirza Ghalib Street near New Market in central Kolkata. The fire broke out during the early hours of Wednesday, filling parts of the building with dense smoke and making evacuation extremely difficult. Around 80 people were rescued while several injured occupants were shifted to hospitals. Reports have identified several Bangladeshi nationals among the victims.
Preliminary reports have identified victims including 68-year-old Jog Narayan Agarwal from Siliguri and 19-year-old Sandeep Paswan. Bangladeshi nationals identified among the deceased include Akram Ali, Debashis Dutta, Afsana Shirmin, child Swarnashis Dutta and Babu Ahmed. However, different reports have carried varying details regarding nationality and identification, making official verification important.
Several of the Bangladeshi victims were reportedly members of the same family and had travelled to Kolkata for medical treatment. The tragedy has therefore also raised concerns over accommodation safety for international visitors seeking medical services in the city.
Initial findings suggest that smoke inhalation may have contributed significantly to the deaths. Poor ventilation, narrow exits and the building's congested structure reportedly complicated the rescue operation. Some rooms reportedly had limited or no windows, making it difficult for occupants to escape the smoke-filled building.
Investigators are examining a possible electrical short circuit as one potential cause, while also looking into whether the building complied with fire-safety and construction regulations. The presence of multiple hotels within the same building and questions surrounding emergency exits and fire-safety arrangements are also being examined.
Kolkata Police have registered a suo motu case and constituted a five-member Special Investigation Team to investigate the tragedy. The investigation will examine the cause of the fire, building approvals, fire-safety compliance, emergency evacuation arrangements and any possible negligence.
The Kolkata Municipal Corporation has also initiated borough-wise inspections and audits of hotels and other high-footfall commercial establishments following the tragedy. The inspections are expected to focus on fire-safety systems and other regulatory violations.
The Mirza Ghalib Street tragedy has once again raised questions about fire safety in Kolkata's densely populated commercial areas. The immediate challenge is to establish accountability, but the larger responsibility is to ensure that safety inspections and regulations are implemented before a disaster occurs rather than after lives have already been lost.
Continue With Google
Comments (0)