শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ছাত্রদের মিছিল, নীটে স্বচ্ছতা ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব আন্দোলনকারীরা; উত্তেজনার আবহে সাংবাদিক ও পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ, প্রশাসনের কড়া বার্তা !

কলকাতা টাইমস নিউজ ডেস্ক

নীট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের আবহে শুক্রবার কলকাতার রাজপথে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ছাত্র-যুব সমাজ। নীট পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলের আয়োজন করে একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও অংশ নেন। তবে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কিছু বিক্ষোভকারী কর্তব্যরত পুলিশকর্মী এবং ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল এবং অন্যান্য বস্তু ছুড়ে মারেন। ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলটি শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এগোচ্ছিল। শিয়ালদহ স্টেশন এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পতাকা, ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ধর্মতলার দিকে অগ্রসর হন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নীট পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পরীক্ষা পরিচালনায় জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে স্লোগান তোলেন। অনেকের মুখে প্রতীকী মুখোশ এবং প্রতিবাদী বার্তাসংবলিত পোস্টারও দেখা যায়, যা আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নীট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার প্রশ্ন নয়; এটি দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ, সমান সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় যদি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় না থাকে, তবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রতি ছাত্রসমাজের আস্থা নষ্ট হবে।

এই কর্মসূচিতে লাদাখের সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুকের চলমান অনশন কর্মসূচির প্রতিও সংহতি জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার, শিক্ষা, পরিবেশ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কলকাতার এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।

ধর্মতলায় পৌঁছে আন্দোলনকারীরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পুলিশ সূত্রে অভিযোগ, কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করেন। সেই সময় কর্তব্যরত পুলিশকর্মী এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের দিকে জুতো, জলের  বোতল এবং অন্যান্য সামগ্রী ছোড়া হয়। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, তাঁরা সংবাদ সংগ্রহের সময় ধাক্কাধাক্কি এবং বস্তুনিক্ষেপের মুখে পড়েন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির দাবি, তাঁদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশি বাধা এবং ব্যারিকেডের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্য, কোনও সাংবাদিক বা পুলিশকর্মীর উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।

জানা গিয়েছে, মূল কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। যদিও আরও কয়েকটি সংগঠনকে পৃথক মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাদের বহু কর্মী মূল মিছিলে যোগ দেন। ফলে ধর্মতলার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় মিছিলের আকার আরও বড় হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, দিল্লির যন্তর-মন্তরে যে আন্দোলন চলছে, তা কেবল রাজধানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই হিসেবেই তাঁরা এই আন্দোলনকে দেখছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী (এই তথ্যটি ব্যবহারকারীর প্রদত্ত উপাদানে রয়েছে; বাস্তব রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন) কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাজ্যে কোনও "রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে" কার্যকলাপ চালাতে দেওয়া হবে না এবং আইন ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার সকলের রয়েছে, তবে সাংবাদিক, পুলিশ বা সরকারি সম্পত্তির উপর হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, নীট-ইউজি পরীক্ষাকে ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং শিক্ষা নীতির উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই আন্দোলন শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং শিক্ষা সংস্কার এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের দাবিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

শুক্রবারের এই বিক্ষোভ আবারও দেখিয়ে দিল, নীট-সংক্রান্ত বিতর্ক এখনও ছাত্রসমাজের মধ্যে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে ধর্মতলার ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সীমারেখা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে প্রশাসনের তদন্ত, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির দিকে। 

 


Kolkata NEET Protest Turns Violent: Shoes and Water Bottles Allegedly Hurled at Journalists and Police During Dharmatala Demonstration !

 

A student protest over the NEET-UG controversy turned tense in central Kolkata on Friday after allegations that some demonstrators hurled shoes, water bottles and other objects at journalists and police personnel during a rally at Dharmatala. The protest, organised primarily by Left-affiliated student organisations, began at Sealdah and drew hundreds of students and activists demanding transparency in the NEET examination process and the resignation of Union Education Minister Dharmendra Pradhan.

Participants carried placards, banners and symbolic masks while raising slogans against alleged irregularities in the examination system. Protesters argued that the NEET controversy has become a nationwide issue affecting the future of millions of students and called for greater accountability and transparency in competitive examinations.

The demonstration also expressed solidarity with social activist Sonam Wangchuk, whose ongoing hunger strike has become a focal point for several civil society groups. Organisers said the movement at Delhi's Jantar Mantar represents a broader struggle for democratic accountability and educational reforms across the country.

Tensions escalated when the march reached Dorina Crossing in Dharmatala, where a sit-in protest was underway. According to police, some protesters allegedly attempted to breach security arrangements and threw shoes, water bottles and other objects at police personnel. Journalists covering the protest also reported being targeted during the commotion while carrying out their professional duties. Additional police forces were deployed to restore order.

The organisers, however, maintained that their protest was peaceful and alleged that the situation deteriorated following restrictions imposed by the police. They denied any organised attempt to attack journalists or law enforcement personnel and called for an impartial inquiry into the incident.

The protest has once again highlighted growing concerns over the credibility of India's competitive examination system. Education experts believe that the NEET controversy has expanded beyond a single examination and now reflects broader questions about transparency, institutional accountability and the future of higher education admissions.