নতুন বছর আসার আগের রাতেই ফের রক্তাক্ত হলো বাংলাদেশ। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল এক নৃশংস হামলা। ৩১ ডিসেম্বর গভীর রাতে একা বাড়ি ফেরার সময় হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাসকে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘিরে ধরে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। মারধর, ধারালো অস্ত্রের কোপ, ছুরিকাঘাত—সব কিছুর পর তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
৫০ বছরের খোকন দাস গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের একাধিক অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে, অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এই ঘটনাটি চলতি ডিসেম্বর মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চতুর্থ বড়সড় হামলা বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সংগঠন। ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন Ministry of External Affairs-এর এক আধিকারিক। তাঁর বক্তব্য, “ডিসেম্বর মাস জুড়েই একের পর এক হামলার ঘটনা সামনে আসছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।”
এর আগে বাংলাদেশের Mymensingh-এ দীপু দাসকে পিটিয়ে, ফাঁস দিয়ে খুন করার পর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি অমৃত মণ্ডল ও বজেন্দ্র দাসের মৃত্যুও ঘিরে রয়েছে রহস্য ও অভিযোগের ছায়া।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহেই এই ধরনের হামলা বাড়ছে। বিশেষ করে অ্যান্টি-ইন্ডিয়া ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যার পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তার জেরে বহু জায়গায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার আঁচ পড়ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর—এমনটাই অভিযোগ।
সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ বেড়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেয়নি Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।
ঘটনাগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে India। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “ক্রমাগত শত্রুতামূলক পরিবেশ” তৈরি হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এই ধারাবাহিক হামলা দুই দেশের সম্পর্কেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।
খোকন দাসের উপর হামলার ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়—এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে এক গভীর সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। নতুন বছরের শুরুতেই এই রক্তাক্ত বাস্তবতা বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।
Comments (0)