খুলনায় শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা গুলিবিদ্ধ, মাথার বাঁদিকে গুলি আততায়ীদের !
লাগাতার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হিংসায় কার্যত বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। একের পর এক খুন, অগ্নিসংযোগ, হামলার মধ্যেই এবার গুলিবিদ্ধ হলেন শ্রমিক সংগঠনের এক শীর্ষ নেতা। খুলনার সোনাডাঙা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে মাথায় গুলি করে আহত করা হয়েছে শ্রমিক নেতা মহম্মদ মোতালেব শিকদারকে। ঘটনাটি নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম Prothom Alo–র খবর অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ শ্রমিক নেতার নাম Mohammad Motaleb Shikdar। তিনি ছাত্রনেতৃত্বাধীন National Citizen Party (NCP)-র শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’-র খুলনা ডিভিশনের আহ্বায়ক।
NCP-র খুলনা মেট্রোপলিটন ইউনিটের আয়োজক Saif Nawaz জানান, খুব শীঘ্রই খুলনায় দলের শ্রমিক সভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই সাংগঠনিক কাজের মাঝেই আচমকা অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, খুব কাছ থেকে মাথার বাঁদিকে গুলি করা হয় মোতালেব শিকদারকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে Khulna Medical College Hospital-এ ভর্তি করা হয়।
সোনাডাঙা থানার ইন্সপেক্টর Animesh Mondal জানান,
“গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরই তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মাথার সিটি স্ক্যানের জন্য সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।”
এই হামলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগেই দেশজুড়ে চরম অশান্তির ছবি সামনে আসছে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা-বিরোধী ছাত্র নেতা ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক Sharif Osman Hadi-র খুনের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ঢাকায় সংসদ ভবনে হামলার চেষ্টা, শাহবাগে বিশাল জমায়েত এবং সেই জমায়েত থেকে সংসদে ঢোকার চেষ্টা—সব মিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি।
শনিবার লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা Belal Hossain-এর বাড়িতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় তাঁর মাত্র ৭ বছরের কন্যার। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই বিএনপি নেতা ও তাঁর আরও দুই সন্তান।
বাংলাদেশে অশান্তির আবহে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে ভারত-বিরোধী স্লোগান ও হামলা। ঢাকায় Indian High Commission Dhaka-র বাইরে পাথরবৃষ্টি হয়। চট্টগ্রামে হামলার মুখে পড়ে ভারতের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনের অফিস।
এর জেরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারত চট্টগ্রামের ভিসা সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে Sylhet-এ অবস্থিত ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন ও ভিসা সেন্টারের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
অশান্তির শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘুরাও। ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপুচন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়। পাশাপাশি গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ—সংবাদমাধ্যমও রেহাই পায়নি। The Daily Star ও প্রথম আলোর অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রবিবার তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
শ্রমিক নেতা মোতালেব শিকদারের উপর গুলি চালানোর ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—বাংলাদেশে হিংসা এখন আর রাজনৈতিক মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই। শ্রমিক সংগঠন, সংখ্যালঘু, সংবাদমাধ্যম—সবাই আতঙ্কের মধ্যে। ভোটের আগে এই অস্থিরতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়েই উদ্বিগ্ন গোটা উপমহাদেশ।
Comments (0)