ইদের আনন্দ শেষে ঘরে ফেরা আর হলো না অনেকের। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের হাসি পরিণত হলো হাহাকারে। বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেল একটি যাত্রীবোঝাই বাস। বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটা নাগাদ ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা, যা গোটা বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
https://twitter.com/i/status/2036811753993171350
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি পন্টুনে দাঁড়িয়ে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। সেই সময় আচমকাই ‘হাসনা হেনা’ নামে একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি এসে সজোরে ধাক্কা মারে পন্টুনে। ধাক্কার জেরে পন্টুনের একটি অংশ ভেঙে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সোজা পদ্মা নদী–এর জলে তলিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটে যে বেশিরভাগ যাত্রী কোনওরকম প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই পাননি।
বাসের কিছু যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, অধিকাংশই ডুবে যাওয়া বাসের ভিতরে আটকে পড়েন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত দু’জন মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে, তবে নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন বলে মনে করা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
https://twitter.com/i/status/2036797091880767983
উদ্ধারকাজ শুরু হলেও তা সহজ হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, বাসটি নদীর প্রায় ৩০ থেকে ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে রয়েছে এবং পন্টুনের নীচে আটকে থাকতে পারে। Bangladesh Fire Service–এর ডুবুরি দল রাজবাড়ী, ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালাচ্ছে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে বারবার বাধা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভও দানা বেঁধেছে। তাঁদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রায় দু’ঘণ্টা কোনও বড়সড় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি। এই বিলম্বের কারণেই প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দ্রুততম সময়েই উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে এবং সর্বশক্তি দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে ফেরিঘাটগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়মকানুন নিয়ে। বিশেষ করে উৎসবের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও যানবাহনের চাপ সামলাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
এখনও নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান জারি রয়েছে। নদীর বুক চিরে চলছে সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে বাড়ছে আশঙ্কা—ইদের খুশির সেই যাত্রা হয়তো অনেকের কাছেই হয়ে উঠল জীবনের শেষ সফর।
Comments (0)