কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১২ ডিসেম্বর
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং চার্টার গণভোট—এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) এ এম এম নাসির উদ্দিনের রেকর্ড করা টিভি ভাষণের মাধ্যমেই শুরু হলো নির্বাচনী প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক পর্ব।
এই নির্বাচনী আয়োজনকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যেই আখ্যা দিয়েছেন—“গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন ও পুনর্গঠিত বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ।”
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী—
মনোনয়ন দাখিল:
-
২৯ ডিসেম্বর ২০২৫–এর মধ্যে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই:
-
৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন:
-
২০ জানুয়ারি ২০২৬।
চূড়ান্ত তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ:
-
২১ জানুয়ারি ২০২৬।
প্রচারের সময়সীমা:
-
২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
প্রচারের শেষ ৪৮ ঘণ্টায় নীরবতা পালনের নিয়ম কার্যকর থাকবে।
টিভি ভাষণে CEC নাসির উদ্দিন দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন—
“ভয় ছাড়াই ভোট দিন। শান্তিপূর্ণ, নির্ভেজাল গণতান্ত্রিক ভোট নিশ্চিত করতে সব পক্ষের আন্তরিক অংশগ্রহণ জরুরি।”
তিনি সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও নাগরিকদের আচারবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
সূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধিও কার্যকর হয়েছে।
এর ফলে—
-
সরকারি সম্পদ বা যানবাহন নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের নিষেধ,
-
সরকার নতুন উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করতে পারবে না,
-
প্রচারে সরকারি কর্তাদের সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, সূচি ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন—
-
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন,
-
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ,
-
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস—
এর সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে।
অপরদিকে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ অনুসারে এখন প্রকাশিত হবে গেজেট, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে—
-
রিটার্নিং অফিসার (RO) এবং
-
অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (ARO)
নিয়োগ করা হবে।
পাশাপসী প্রার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—সূচি ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করতে হবে।
এই প্রথম বাংলাদেশে একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ভোটের সময়ও এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণ:
-
সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০
মোট ভোটকেন্দ্র: ৪২,৭৬১
মোট বুথ: ২,৪৪,৭৩৯
মোট ভোটার: প্রায় ১২.৭৬ কোটি
প্রসঙ্গত ভোটের আগের দিনই সমস্ত ব্যালট পেপার, সিল, ভোটবাক্স ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই—
-
৩০০টি আসনের নির্বাচনি সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছে,
-
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করেছে,
-
দুটি নতুন রাজনৈতিক দলকে অনুমোদন দিয়েছে,
-
আরও দু’টি আবেদন বিবেচনায় রয়েছে।
লক্ষাধিক নির্বাচন কর্মী—প্রেসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রেসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের ট্রেনিংও চলছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং সব জেলার ডেপুটি কমিশনাররা RO হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ থাকবে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষায়।
একইসাথে প্রথমবারের মতো ব্যাপক সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও ভোট দেবেন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে।
বুধবার রাত পর্যন্ত ২,৯৭,০০০ প্রবাসী ভোটার অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।
তাদের ব্যালটে শুধু দলীয় প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রতীক থাকবে।
ব্যালট অবশ্যই ভোট শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট RO-এর কাছে পৌঁছাতে হবে।
বাংলাদেশের প্রথম ‘টুইন পোল’—জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চার্টার গণভোট—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। সূচি ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনার চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করল। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এর ভোটযজ্ঞ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, নীতি নির্ধারণ এবং সাংবিধানিক ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলেই বিশ্লেষকদের মত।
Continue With Google
Comments (0)