কলকাতা টাইমস নিউজ  :সম্পাদকীয় :কলকাতা :২০ ডিসেম্বর

বাংলাদেশ আজ এক কঠিন ও আবেগমথিত মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে। ছাত্র আন্দোলনের মুখ, ইনকিলাব মঞ্চের তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায়। চারদিকে শোক, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহ—সব মিলিয়ে আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।

১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরনো পল্টনে মুখোশধারী বন্দুকবাজদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন শরিফ ওসমান হাদি।
সরকারি উদ্যোগে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানকার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

শুক্রবার সন্ধে ৬টা নাগাদ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে তাঁর দেহ পৌঁছয় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরজুড়ে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং হাজারো মানুষের শোকাবহ উপস্থিতি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং জানিয়েছে, আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে হাদির জানাজা।

  • এলাকায় ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ

  • অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ বা ভারী জিনিস না আনতে অনুরোধ

  • সংসদ ভবনের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিশেষ কমান্ডো মোতায়েন

ইউনূস সরকারের নির্দেশে শনিবার বাংলাদেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।

অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চ থেকে জানানো হয়েছে—পরিবারের ইচ্ছায় হাদিকে সমাধিস্থ করা হবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সংগঠনের ঘোষণা—“জানাজা হবে জোহরের পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে; দেহ শোকপ্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে না।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভল্কার ট্যুর্ক হাদির হত্যাকে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন—
“স্বচ্ছ, দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত অবশ্যই প্রয়োজন। প্রতিশোধ বা হিংসা শুধু বিভাজন বাড়াবে।” তিনি প্রত্যেক পক্ষকে হিংসা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাদির মৃতদেহ ঢাকায় পৌঁছতেই বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার নাগরিকদের উদ্দেশে বিবৃতিতে বলেছে—“কিছু fringe elements সহিংসতা ছড়াতে চাইছে। সকলকে সংযত হতে হবে।”

একইসাথে ইউনূস সরাসরি বলেছেন—“যারা হাদির হত্যায় জড়িত, তাদের প্রতি কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না।”

অপরদিকে শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হাদির স্মরণে বের হওয়া মিছিল হঠাৎই ভারতবিরোধী স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির নেতা সারজিস আলম বলেন—“হাদির খুনিরা ভারতে পালিয়ে গেছে। ভারতীয় হাইকমিশন বন্ধ করে দিতে হবে—এখনই, নাহলে কখনোই নয়। আমরা যুদ্ধ করছি।”

এই মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও অস্বস্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস সতর্কবার্তায় জানিয়েছে—“শান্তিপূর্ণ সমাবেশও মুহূর্তে হিংসায় রূপ নিতে পারে।”

ব্রিটিশ ফরেন অফিসও চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

হাদি ছিলেন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদ গণভোট। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাদির মৃত্যু নির্বাচনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং ভোট পরিচালনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

বাংলাদেশ এখন একদিকে শোক, অন্যদিকে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে—আজকের জানাজা যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও প্রভাবিত করবে, তা স্পষ্ট।