কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৫ ডিসেম্বর
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অভিযোগকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিল ভারত। রবিবার ঢাকার তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল—ভারতে আশ্রয় নিয়ে শেখ হাসিনা ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ দিচ্ছেন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। দিনের শেষে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিল—বাংলাদেশের বন্ধুবৎসল জনতার স্বার্থবিরোধী কোনও কাজে ভারতের ভূখণ্ড কখনওই ব্যবহৃত হতে দেওয়া হয় না। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, দৃঢ় এবং অপরিবর্তিত।
রবিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে তলব করে বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রক। পরে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার।প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও সেটি তাঁর সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।
ঢাকার অভিযোগ—
-
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে भारत থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা উচিত।
-
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা নাকি ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন’।
-
তাঁর সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে নির্দেশ দিচ্ছেন।
-
ভারতের নাগরিক বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন ‘ফ্যাসিস্ট-টেররিস্ট’ কর্মকাণ্ড না ঘটে, তার দাবি জানায় ঢাকা।
-
শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযুক্তরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে—এ অভিযোগও তোলে তারা।
অন্যদিকে দিল্লির জবাব—“ঢাকার দাবি ভিত্তিহীন, ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত”। অল্প সময়ের মধ্যেই নয়াদিল্লির পাল্টা বিবৃতি আসে। ভারত স্পষ্ট করে জানায়—
“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের রবিবারের বিবৃতি আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
ভারত আরও জানিয়েছে—
-
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন চাই ভারত।
-
বহুদিন ধরেই ভারত এই অবস্থান বজায় রেখেছে এবং আগামীতেও তা থাকবে।
-
ভারতের ভূখণ্ড বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনও কাজে ব্যবহার করা হবে না, অতীতেও হয়নি।
-
আশা করা হচ্ছে, ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার নিজের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের ভাষায়—
“বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী কোনও কাজ আমরা কখনওই মেনে নেব না।”
অপরদিকে ঢাকার বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়—
-
শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ভারত থেকে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন।
-
ভারত যেন তাঁদের সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ করে।
-
বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের ধরতে ভারত যেন তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেয়।
দিল্লির স্পষ্ট বার্তার পর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েন আরও প্রকট হলো বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়ায় প্রতিবেশী হিসেবে সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
Continue With Google
Comments (0)