কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :৩১ ডিসেম্বর

ঢাকার ভোর আজ ভারী। পতাকা মোড়ানো গাড়ির জানালা দিয়ে শহর দেখছে ইতিহাস—বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন Khaleda Zia-র মরদেহ বুধবার সকাল সোয়া ন’টার কিছু পর Evercare Hospital থেকে নিয়ে যাওয়া হয় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে—বড় ছেলে Tarique Rahman-এর বাসভবনে। আগের দিন ভোরে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

গুলশানের বাড়িতে তখন উপস্থিত পরিবারের একাধিক সদস্য—তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান; প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি ও তাঁদের দুই কন্যা জাহিয়া ও জাফিয়া। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, বোন সেলিমা ইসলাম, প্রয়াত ভাই সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দারসহ নিকটাত্মীয়রাও সেখানে রয়েছেন। জুবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ও বড় মেয়ে শাহিনা জামান খানও উপস্থিত।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে—Mirza Fakhrul Islam Alamgir, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-সহ অনেকে।

২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে উচ্ছেদের পর খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় ওঠেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে এই বাড়িটিই তাঁকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক টানাপড়েনের পর কয়েক মাস আগে বাড়িটির দলিলপত্র তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। কাকতালীয় ভাবে, দেড় দশকের নির্বাসন কাটিয়ে গত সপ্তাহেই যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে পাশের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন তারেক রহমান—মায়ের শেষযাত্রায় যেন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ইতিহাস ও উত্তরাধিকার।

ডিএমপি জানিয়েছে, মরদেহ বহনের সময়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে, কুড়িল ফ্লাইওভার, নৌ সদর দপ্তর হয়ে ‘ফিরোজা’, গুলশান-২, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভেনিউ, এয়ারপোর্ট রোড, মহাখালী ফ্লাইওভার, জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি ও উড়োজাহাজ ক্রসিং—এই সব পথে বুধবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

বুধবার বাদ জোহর Manik Mia Avenue-তে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ ও পুরো অ্যাভেনিউ জুড়ে আয়োজন হবে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে। জানাজায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

জানাজার পর বেলা সাড়ে তিনটের দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হবে স্বামী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা Ziaur Rahman-এর কবরের পাশে।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দৃঢ় অবস্থানের জন্য ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। পাঁচবার সংসদ সদস্য, তিনবার প্রধানমন্ত্রী এবং দু’বার বিরোধী দলীয় নেত্রী—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে তাঁর ছাপ অমোচনীয়।