কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৬ ডিসেম্বর

‘বয়কট বাংলাদেশ ’ গত দু’তিন দিন ধরে এমন পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী শহর Siliguri। রেলস্টেশন ও জংশন সংলগ্ন এলাকায় টাঙানো পোস্টারে লেখা—বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা বন্ধের আহ্বান। এই আবহেই এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন শিলিগুড়ি ও Malda-র একাংশ হোটেল মালিক। তাঁদের বক্তব্য—বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে হোটেলে জায়গা দেওয়া হবে না। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই চিকিৎসা বা পড়াশোনার কারণে শহরে রয়েছেন, তাঁদের জোর করে বের করে দেওয়া হবে না; বরং হাতজোড় করে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

শিলিগুড়ি শহরে হোটেল মালিকদের সংগঠনের আওতায় রয়েছে ১৮০টিরও বেশি হোটেল। কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশি নাগরিকদের বড় অংশ বাসস্ট্যান্ড এলাকার হোটেলগুলিতে থাকতেন। কারণ, সে সময় বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা থেকে বাস এসে থামত মাল্লাগুড়ি এলাকায়। এখন পরিস্থিতি বদলেছে।

বর্তমানে ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশি নাগরিকরা হিলকার্ট রোড, বিধান রোড ও হাশমিচক এলাকার হোটেলগুলিতে ওঠেন—বিশেষ করে যেখানে বেসরকারি নার্সিংহোম রয়েছে। চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনেই তাঁদের এই যাতায়াত।

তবে সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে অশান্তির পর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে গড়ে ২৫–৩০ হাজার মানুষ আসতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১৫০০–২০০০-এ। তবুও চিকিৎসা বা পড়াশোনার কারণে কিছু মানুষ এখনও শহরে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক Ujjwal Ghosh বলেন,
“মানবিকতার দিক থেকে আমরা কাউকে ক্ষতি করতে চাই না। যাঁরা ইতিমধ্যেই চিকিৎসা বা পড়াশোনার কারণে হোটেলে রয়েছেন, তাঁদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে না। তবে পরিস্থিতির কথা জানিয়ে আমরা তাঁদের অনুরোধ করব—যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের দেশে ফিরে যান।”

তিনি আরও বলেন, হোটেল ব্যবসা সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যেই চলে। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মানবিক দিকটি মাথায় রাখা হচ্ছে।

শিলিগুড়ি ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা Sandip Mahato বলেন,
“শুধু সংখ্যালঘু হওয়ার অপরাধে বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে খুন করা হয়েছে। বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের অভিযোগও উঠছে। এমন মানবতাবিরোধী ঘটনার প্রতিবাদেই আমাদের ক্ষোভ। আমরা চাই না এই পরিস্থিতিতে কোনও সম্পর্ক বজায় থাকুক।”

এই বক্তব্যে শহরের একাংশ মানুষের মনোভাব স্পষ্ট—ঘটনাপ্রবাহে ক্ষোভ রয়েছে, তবে তার বহিঃপ্রকাশ যেন সহিংস না হয়, সে বিষয়েও সচেতনতা দেখা যাচ্ছে।

শুধু শিলিগুড়িই নয়, মালদাতেও হোটেল মালিকদের একাংশ একই অবস্থান নিচ্ছেন। সেখানেও নতুন করে বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে না রাখার সিদ্ধান্তের কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও সরকারি স্তরে কোনও লিখিত নির্দেশিকা নেই, বিষয়টি পুরোপুরি হোটেল মালিকদের ব্যক্তিগত ও সংগঠনগত সিদ্ধান্ত বলেই জানানো হয়েছে।

পোস্টার ও প্রতিবাদের খবর সামনে আসতেই প্রশাসনের নজর রয়েছে এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য—আইনের বাইরে গিয়ে কোনও পদক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

শিলিগুড়ি ও মালদায় হোটেল মালিকদের এই অবস্থান সীমান্ত শহরগুলিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনারই প্রতিফলন। একদিকে মানবিকতা বজায় রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে প্রতিবাদ—এই দুইয়ের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে শহরগুলি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে উপমহাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর।