কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :৩১ ডিসেম্বর
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক যখন টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই প্রতিবেশী দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে ঢাকায় যাচ্ছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। কূটনৈতিক মহলে এই সফরকে শুধু শোকজ্ঞাপন নয়, বরং দিল্লির তরফে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ‘আউটরিচ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী S Jaishankar বুধবার ঢাকায় খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। প্রয়াত Khaleda Zia ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং Bangladesh Nationalist Party-র চেয়ারপার্সন।
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন India ও Bangladesh-এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে শীতলতা বেড়েছে। গত বছর ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন এক অনিশ্চয়তার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
খালেদা জিয়া ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬—এই দু’দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর শাসনামলে তিনি প্রায়শই আওয়ামী লিগের ভারতঘেঁষা রাজনীতির বিপরীতে এক রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশ কৌশলগত ভাবে China-র সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছিল, যা দিল্লির কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর সরকারের সময়েই বেইজিং বাংলাদেশের প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী হয়ে ওঠে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন Muhammad Yunus। এই পরিস্থিতিতে ভারত সতর্ক নজরে দেখছে—ঢাকা ভবিষ্যতে Pakistan এবং চিনের দিকে আরও ঝুঁকে পড়ে কি না।
এই প্রেক্ষাপটেই খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জয়শঙ্করের উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
খালেদা জিয়ার প্রয়াণের কিছুদিন আগেই তাঁর পুত্র এবং বিএনপি-র কার্যত শীর্ষ নেতা Tarique Rahman দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে নির্বাচনের মুখে থাকা বাংলাদেশে ফিরেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনিই আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার।
ঢাকায় এক সমাবেশে তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“Not Dilli, not Pindi, Bangladesh before everything।”
এই বক্তব্যে তিনি বোঝান, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোনও একটি দেশের ছায়াতেই পরিচালিত হবে না।
তিনি একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির মতো মৌলবাদী গোষ্ঠীর সমালোচনাও করেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
দিল্লি জানে, খালেদা জিয়ার শাসনকালে ঢাকা–ইসলামাবাদ সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়েছিল। তবে সেই সময়ে জামায়াতের প্রভাব ছিল বেশি। বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতের দূরত্ব ভারতের কাছে নতুন কূটনৈতিক সুযোগও তৈরি করতে পারে।
খালেদা জিয়া ও তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশনীতি যেন ভারতের ‘ছায়ায়’ পরিচালিত না হয়। তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বার্তাও সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।
খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এস. জয়শঙ্করের উপস্থিতি শুধু শোকজ্ঞাপন নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দিল্লি যে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের সেতু ভাঙতে চাইছে না, এই সফর তারই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
Continue With Google
Comments (0)