কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৭ নভেম্বর 

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদিয়ালা জেলের ভিতর খুন করা হয়েছে—সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই দাবিতে রিটার পাকিস্তান জুড়ে ছড়ায় উত্তেজনা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নানা অনিয়ন্ত্রিত জল্পনা, ভুয়ো পোস্ট ও গুজব ছড়াতে থাকে। শেষমেশ রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষই মুখ খুলে জানাল—“এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইমরান খান সুস্থ আছেন। তাঁকে নিয়মিত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।”

সোমবার বিকেল থেকেই পাকিস্তানের একাধিক ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দাবি করা হয়—

  • ইমরান খানকে জেলের ভিতর আক্রমণ করা হয়েছে

  • তাঁকে হত্যা করা হয়েছে

  • জেল প্রশাসন বিষয়টি লুকোচ্ছে

এই পোস্টগুলি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশের দাবি—ইমরানের সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ নেই, তাই সন্দেহ আরও বেড়েছে।

গুজব থামাতে রাতেই বিবৃতি দেয় আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি—

  • “ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যে।”

  • “তাঁর স্বাস্থ্য ভাল আছে। নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ করা হচ্ছে।”

  • “বন্দি হিসেবে তিনি যেসব অধিকার পাওয়ার যোগ্য, সবই তাঁকে দেওয়া হচ্ছে।”

জেল সুপারিনটেন্ডেন্ট আরও বলেন—ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা চলছে।

ইমরান খান বর্তমানে আদিয়ালা জেলে Cipher case-সহ একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত।
গত বছর গ্রেফতারের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর দল পিটিআই (PTI)।

  • আদালতে যেতে না পারা

  • পরিবার-আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা

  • জেলের ভিতরে ‘অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা’—এমন অভিযোগ আগেও তুলেছিল পিটিআই।

এ সব কারণেই নতুন গুজব আরও দ্রুত ছড়িয়েছে।

গুজব ছড়ানোর পর পিটিআইয়ের একাধিক নেতা জেল কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান।
পার্টির দাবি—

  • ইমরানের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য প্রশ্নের মুখে

  • জেল প্রশাসনের বিবৃতি দিলেও তাঁরা স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের দাবি জানাচ্ছেন

পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহ ,পাকিস্তানে এখন :

  • অর্থনৈতিক সঙ্কট

  • রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

  • সেনা-সরকার সম্পর্কের টানাপড়েন
    এই অবস্থায় ইমরানের মতো জনপ্রিয় নেতাকে ঘিরে মৃত্যুর গুজব ছড়ানোয় জনমনে অস্বস্তি বাড়ে।

সরকার জানিয়েছে - যে কোনও ভুয়ো তথ্য ছড়ালে ফেক নিউজ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।