কলকাতা টাইমস নিউজ ডেস্ক:
ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতার সীমা কোথায়? ভোটার তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া কি নাগরিকত্ব বাতিলের সমান? এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে ফের স্পষ্ট অবস্থান জানাল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, নির্বাচন কমিশনের হাতে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং সন্দেহজনক নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকলেও, কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কমিশনের নেই। নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের।
একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR)-এর সময় যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের রেশন-সহ বিভিন্ন সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর বহু মানুষকে কার্যত সরকারি পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির চেয়ারম্যান এবং জয়েন্ট ফোরাম এগেইনস্ট ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (NRC)-এর আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বসু। তাঁর অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেই সরকারি রেশন, সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে। আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশনের কাজ শুধুমাত্র ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা এবং সংশোধন করা। কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে কমিশন সেই ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিতে পারে। তবে কমিশন নিজে কোনও ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক নন বলে ঘোষণা করতে পারে না।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের মামলার শুনানির সময়ও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালত বলেছিল, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের তালিকা নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠাবে। কারণ ভারতীয় নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার সাংবিধানিক এবং আইনি ক্ষমতা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রয়েছে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা আবারও স্পষ্ট করে দিল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই কোনও ব্যক্তি তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব হারিয়ে ফেলেছেন—এমন ধারণা আইনসম্মত নয়। নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য পৃথক আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনও ব্যক্তিকে নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করা যায় না।
মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করণারায়ণন আদালতে জানান, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৩ লক্ষ মানুষ আপিল করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক আবেদন থেকেই বোঝা যায়, কত মানুষ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি আদালতকে আরও জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের পক্ষে রায় এসেছে। অর্থাৎ যাঁদের নাম প্রথমে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অধিকাংশের নাম ফের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তথ্যই প্রমাণ করে যে প্রাথমিক পর্যায়ে বহু ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনকারীদের দাবি।
আইনজীবীর বক্তব্যে আদালত বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করে। আদালত জানতে চেয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে কি না এবং যদি হয়ে থাকে, তাহলে তার আইনি ভিত্তি কী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের ভোটার তালিকা সংশোধন, নাগরিকত্ব যাচাই এবং সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC), ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এখন নজর থাকবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং নির্বাচন কমিশন আদালতে কী জবাব দেয় এবং পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়। কারণ এই মামলার ফলাফল লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার, নাগরিক অধিকার এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে প্রবেশাধিকারের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
EC Can Remove Doubtful Voters, But Cannot Decide Citizenship: Supreme Court Clarifies Constitutional Limits !
The Supreme Court on Friday reaffirmed the constitutional limits of the Election Commission's powers, observing that while the Commission has the authority to remove names from electoral rolls if citizenship credentials appear doubtful, it has no jurisdiction to determine whether an individual is an Indian citizen.
Hearing a Public Interest Litigation (PIL) filed by Prasenjit Bose, Chairperson of the West Bengal Pradesh Congress Committee and Convener of the Joint Forum Against NRC, a Bench comprising Chief Justice Surya Kant, Justice Joymalya Bagchi and Justice V. Mohana sought responses from the West Bengal Government and the Election Commission over allegations that people whose names were deleted during the Special Intensive Revision (SIR) of electoral rolls were subsequently denied welfare benefits, including ration.
The Bench reiterated that the Election Commission's constitutional responsibility is limited to preparing and revising electoral rolls. It may remove a person's name from the voter list if citizenship credentials are doubtful, but it cannot declare that person to be a non-citizen.
The Court recalled that during hearings concerning SIR exercises in Bihar and West Bengal, it had already clarified that any list of persons with doubtful citizenship must be forwarded to the Union Government, which alone has the legal authority to determine citizenship under Indian law.
Appearing for the petitioner, Senior Advocate Gopal Sankaranarayanan informed the Court that nearly 3.3 million people have appealed against the Election Commission's decision to delete their names from the electoral rolls.
He further stated that appellate tribunals have disposed of around 30,000 appeals so far, with nearly 70 per cent decided in favour of the applicants, resulting in restoration of their names to the voter list. According to the petitioner, this raises serious concerns about the accuracy of the initial deletions.
Taking note of the allegations that deletion from electoral rolls was being used as a basis for denying access to welfare schemes, the Supreme Court issued notices to both the West Bengal Government and the Election Commission seeking detailed responses.
The case is expected to have far-reaching implications for electoral roll revisions, citizenship verification, welfare entitlements and constitutional rights across India.
Continue With Google
Comments (0)