কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২১ ডিসেম্বর
প্রলম্বিত সাজা নয়, আইনই বলছে ছাড়তে হবে—ডেলি কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়
আগুস্তা–ওয়েস্টল্যান্ড ভিভিআইপি হেলিকপ্টার দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ব্রিটিশ নাগরিক ক্রিশ্চিয়ান জেমস মিশেলকে অবশেষে মুক্তির নির্দেশ দিল দিল্লির একটি বিশেষ আদালত।
তবে এই মুক্তি এডি-র মানি লন্ডারিং মামলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—সিবিআইয়ের দুর্নীতির মামলায় তিনি এখনও হেফাজতেই থাকবেন।
শনিবার বিশেষ সিবিআই বিচারক সঞ্জয় জিন্দালের আদালত জানায়—
-
PMLA মামলায় মিশেলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর,
-
তিনি ইতিমধ্যে সাত বছর হেফাজতে কাটিয়ে ফেলেছেন,
-
তাই তাঁকে আর এই মামলায় আটকে রাখার আইনি ভিত্তি নেই।
আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, “Section 436A CrPC অনুযায়ী অভিযুক্তকে মুক্তি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁর আটক রাখার আর কোনও আইনগত কারণ থাকল না।”
কেন এখন মুক্তির পথ খুলল মিশেলের ?
১. CrPC 436A — আইনই দিচ্ছে মুক্তির সুরক্ষা
এই আইনে স্পষ্ট বলা আছে—
যদি কোনও অভিযুক্ত বিচার চলাকালীন সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সাজার অর্ধেকের বেশি জেলে কাটিয়ে ফেলেন, তবে তাঁকে মুক্তি দেওয়া বাধ্যতামূলক।
মিশেল তো পুরো শাস্তির মেয়াদই কাটিয়ে ফেলেছেন—৭ বছর।
২. সাত বছর ধরে জেলে, বিচার শেষ হয়নি
২০১২ সালে মামলার তদন্ত শুরু,
২০১৮ সালে দুবাই থেকে প্রত্যর্পণ,
এরপর এডি ও সিবিআই—দুই সংস্থাই তাঁকে গ্রেফতার করে।
এত দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াকে মিশেলের আইনজীবী সরাসরি বলেছেন:“এটি ন্যায়বিচারের প্রতি উপহাস (mockery of justice)। জামিন দেওয়া হলেও বাস্তবে স্বাধীনতা নেই।”
তৎক্ষণাৎ মুক্তি নয়—কেন ?
কারণ, সিবিআই–এর দুর্নীতি মামলায় তিনি এখনও অভিযুক্ত।
এডি মামলায় মুক্তি পেলেও, সিবিআই–এর মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তাঁকে হেফাজতেই থাকতে হবে।
শনিবার আদালত সিবিআই মামলায় মিশেলের পিটিশনও শুনেছে এবং সংস্থাকে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে।
অন্যদিকে ৩,৬০০ কোটি টাকার ভিভিআইপি চপার কেনাকাটা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল এই মামলা।
অভিযোগ—
-
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঘুষ,
-
ক্রয় প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা,
-
তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে প্রভাব।
আগুস্তা–ওয়েস্টল্যান্ড (ফিনমেকানিকা)—ব্রিটিশ-ইতালিয়ান নির্মাতা সংস্থা, ১২টি ভিভিআইপি হেলিকপ্টার সরবরাহের চুক্তি পায়। মিশেলকে এই চুক্তির ‘key middleman’ বলে অভিযোগ এডি ও সিবিআই-এর।
অপরদিকে তিনি লিখিতভাবে আদালতকে জানিয়েছেন—
-
মুক্তি পেলে তিনি বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন,
-
তিনি আদালতের নির্দেশ অমান্য করবেন না,
-
তাঁর দীর্ঘ কারাবাস অসঙ্গত এবং অমানবিক।
আগামী পদক্ষেপ কী ?
-
২২ ডিসেম্বর সিবিআই মামলার পরবর্তী শুনানি।
-
সিবিআই যদি হেফাজতের প্রয়োজনীয়তা দেখাতে না পারে, তবে তাঁর মুক্তির সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
-
রাজনৈতিক তরঙ্গে আগুস্তা মামলার নতুন মোড় নিয়ে আবার সরগরম হতে পারে দেশীয় রাজনীতি।
Continue With Google
Comments (0)