কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৩ ডিসেম্বর

কম ভোটে বড় লড়াই, শালিমার বাগ–দ্বারকা–গ্রেটার কৈলাশে গেরুয়া শিবিরের দুর্দান্ত জয়

দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD)–এর ১২টি ওয়ার্ডে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই ফলাফলে ফের একবার গেরুয়া ঝড়—১২টির মধ্যে ৭টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে বিজেপি।
আপ পেয়েছে ৩, কংগ্রেস ১, এবং ফরওয়ার্ড ব্লক পেয়েছে ১ আসন।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে দিল্লির ১০টি গণনা কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়। এটাই ছিল ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির প্রথম বড় নির্বাচন। ফলে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের চোখ ছিল এই ফলাফলের দিকে।

বিজেপির ঝুলিতে বড় জয়: শালিমার বাগে ১০ হাজারের লিড

বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে স্বচ্ছন্দে জয় পেয়েছে বিজেপি।

  • শালিমার বাগ বি ওয়ার্ডে বিজেপির অনিতা জৈন, আপের ববিতা রানাকে ১০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন।

  • দ্বারকা–বি ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী মনীষা রানি জয়ী হয়েছেন ৯,১০০ ভোটে, প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আপের রাজবালা।

  • গ্রেটার কৈলাশ, দিচাঁও কালান–এর মতো ওয়ার্ডেও বিজেপি এগিয়ে থেকেছে ভোটের বড় ব্যবধানে।

বিজেপির সুমন কুমার গুপ্ত ১,১৮২ ভোটে হারিয়ে দেন আপ প্রার্থী হর্ষ শর্মাকে।
অশোক বিহারে বিজেপি প্রার্থী ভীণা আসিজা খুবই কাছাকাছি লড়াইয়ে জয়ী হন—মাত্র ৪০৫ ভোটে।

অন্যদিকে আপের ঘরে ৩ জয়, নারায়ণায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

Aam Aadmi Party তিনটি ওয়ার্ডে জয় পায়—

  • মুন্ডকা

  • দক্ষিণপুরী

  • নারায়ণা – যেখানে আপ প্রার্থী রাজন অরোরা মাত্র ১৪৮ ভোটে জয়লাভ করেন।

একইসাথে কংগ্রেসের সান্ত্বনা পুরস্কার: সুরেশ চৌধুরীর বড় জয়

কংগ্রেস একটি মাত্র ওয়ার্ডে জয় পেলেও সেই জয় উল্লেখযোগ্য।

সঙ্গম বিহার এ–ওয়ার্ডে কংগ্রেসের সুরেশ চৌধুরী ১২,৭৬৬ ভোট পেয়ে হারান বিজেপির সুব্রত গৌতমকে।

ফরওয়ার্ড ব্লক চাঁদনি মহল ওয়ার্ডে জিতেছে—মোহাম্মদ ইমরান ৪,৬৯২ ভোটে আপকে হারান।

অপরদিকে কম ভোটে বড় ফল: মাত্র ৩৮.৫১% ভোটার ভোট দিয়েছেন

উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩৮.৫১%, যা ২০২২ সালের MCD নির্বাচনের ৫০.৪৭%–এর তুলনায় অনেক কম।
নভেম্বর ৩০-এ হওয়া ভোটের ১২টির মধ্যে—

  • ৯টি আসন আগে ছিল বিজেপির

  • ৩টি ছিল আপের

এদিনের ফলাফলে দেখা গেল, বিজেপি তাদের সংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে পেরেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলিতে বড় ব্যবধানে এগিয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তা, ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ,রাজধানী জুড়ে ১০টি কেন্দ্র—
কাঞ্জাওয়ালা, পিতামপুরা, ভারত নগর, সিভিল লাইনস, রাউজ অ্যাভিনিউ, দ্বারকা, নাজফগড়, গোলমার্কেট, পুষ্পবিহার, মাণ্ডাওলি—
এসব জায়গায় ভোটগণনা হয়।
ইভিএম রাখা ‘স্ট্রং রুম’–গুলো

  • ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি

  • কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারা

  • দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা
    —সব মিলিয়ে ছিল কঠোর সুরক্ষার ব্যবস্থা।

যদিও এই ফলাফলে স্পষ্ট—দিল্লির মিউনিসিপ্যাল রাজনীতিতে বিজেপির দাপট এখনো অটুট।
একইসঙ্গে, কয়েকটি ওয়ার্ডে আপের সঙ্কীর্ণ জয় দেখিয়ে দিচ্ছে, শহরতলিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো ঘোরতর। কংগ্রেসও সামান্য হলেও উপস্থিতি জানান দিতে পেরেছে।