কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :২১ জানুয়ারি ২০২৬

৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনমুখী করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, রাজধানীর Kartavya Path-এ আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় **১০,০০০ ‘বিশেষ অতিথি’**কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। Ministry of Defence এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অতিথিরা কোনও ভিআইপি নন—বরং দেশের উন্নয়নে যাঁরা নীরবে, নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রেখে চলেছেন, তাঁদেরই সম্মান জানাতে এই উদ্যোগ। আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন—

  • আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য কাজ করা ব্যক্তিত্ব

  • সেরা উদ্ভাবক, গবেষক ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তা

  • স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Groups)-এর সেরা কর্মীরা

  • কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সাফল্য অর্জনকারীরা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে ‘জনভাগিদারি’ আরও বাড়ানো এবং রাষ্ট্রগঠনে অবদান রাখা নাগরিকদের জাতীয় মঞ্চে স্বীকৃতি দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।

এই ১০,০০০ বিশেষ অতিথিকে কর্তব্যপথে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের গ্যালারি ও বসার জায়গাগুলির নামকরণ করা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন নদীর নামে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে।

উদ্‌যাপনের পাশাপাশি এই অতিথিদের জন্য বিশেষ কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। তাঁরা পরিদর্শন করবেন—

  • National War Memorial

  • PM Sangrahalay
    এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাওয়ার সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসকে ঘিরে গোটা নিউ দিল্লি জেলা ও কর্তব্যপথে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র থেকে সন্ত্রাস-সংক্রান্ত হুমকির তথ্য পাওয়ার পর Delhi Police প্রযুক্তিনির্ভর, বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। নিরাপত্তা বিন্যাসেও এ বছর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে—যাতে অতিথিদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য দুটোই নিশ্চিত হয়।

পুলিশের তরফে সমস্ত আমন্ত্রিত অতিথি ও টিকিটধারীদের অনুরোধ করা হয়েছে—

  • আমন্ত্রণপত্রে দেওয়া নির্দেশিকা মনোযোগ দিয়ে পড়তে

  • শুধুমাত্র নির্দিষ্ট রুট ও প্রবেশপথ ব্যবহার করতে

রুট, পার্কিং ও গ্যালারি সংক্রান্ত সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও দিল্লি পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইটে।

সব মিলিয়ে, এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজ শুধুই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়—বরং সাধারণ মানুষের অবদানকে সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রগঠনের উৎসব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে কেন্দ্র। কর্তব্যপথে সেই বার্তাই আরও জোরালো ভাবে ধ্বনিত হতে চলেছে।