কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৭ ডিসেম্বর
উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার মোবারকপুর খাদার গ্রাম শনিবার সাক্ষী থাকল এক মর্মান্তিক ঘটনার। অভিযোগ, দাম্পত্য অশান্তির জেরে দুই নিরপরাধ সন্তানকে বিষ খাইয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন বাবুরাম নামে এক যুবক। ঘটনায় মৃত তিনজন—বাবুরাম (২৮), পাঁচ বছরের ছেলে দীপাংশু এবং তিন বছরের কন্যা হর্ষিকা।
গ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে গভীর শোক ও তীব্র চাঞ্চল্য।
পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার দুপুরে নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বাবুরাম। বাড়ির পাশের জঙ্গলে যান তিনি। সেখানেই নাবালক দুই সন্তাকে আগে বিষ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ। তারপর নিজেও বিষ গ্রহণ করেন বাবুরাম।
তিনজনেরই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জঙ্গলে তিনটি নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর পাঠান। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও চিকিৎসকেরা সবাইকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান—এই ভয়াবহ সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ হতে পারে দাম্পত্য কলহ। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র অশান্তি চলছিল। প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল।
তবে পুলিশ এখানেই তদন্ত শেষ করছে না।
তদন্তকারী আধিকারিকরা বলছেন—
-
কোনও আর্থিক সমস্যা ছিল কি?
-
মানসিক অবসাদ বা অন্য কোনও পারিবারিক চাপে ছিলেন কি বাবুরাম?
-
স্ত্রী অথবা পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে বিশেষ কোনও বিবাদ চলছিল কি?
এই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত দেহ তিনটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। বিষের প্রকৃতি, মৃত্যুর সময় এবং ঘটনার সময়সীমা সম্পর্কিত তথ্য তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজনোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) প্রকাশ কুমার জানিয়েছেন—
“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সব দিক থেকেই তদন্ত চালাচ্ছি। খুব শিগগিরই সঠিক কারণ সামনে আসবে।”
মোবারকপুর খাদার গ্রামের মানুষ এখনও অবিশ্বাসে অচেতন। কে ভাবতে পারে—যে মানুষটি প্রতিদিন সন্তানদের হাত ধরে স্কুলে পাঠাতেন, তিনিই এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?
স্থানীয়রা বলছেন—
“যাই হোক, ঝগড়া–অশান্তি তো বেশিরভাগ বাড়িতেই হয়। কিন্তু তাই বলে নিজের সন্তানকে এইভাবে শেষ করে দেওয়ার মানসিকতা! যেন বিশ্বাসই করা যাচ্ছে না।”
Continue With Google
Comments (0)