কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৯ অক্টোবর 

ওডিশার বালেশ্বর জেলার জলেশ্বর এলাকায় ঘটল ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা। বুধবার ভোরে কলকাতাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের, আহত হন অন্তত দশজন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাসের চালক শেখ আবদুল এবং সহকারী নরসিংহ খাটুয়া।

দুর্ঘটনাটি ঘটে জলেশ্বর এলাকার লক্ষ্মণনাথ টোল প্লাজার কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে প্রবল গতিতে ছুটে আসা বাসটি হঠাৎই রাস্তার পাশে থাকা ট্রাকটিকে দেখতে না পেয়ে পেছন দিক থেকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাতে বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অধিকাংশ যাত্রী তখন ঘুমোচ্ছিলেন, ফলে অনেকেই আচমকা ধাক্কায় গুরুতর জখম হন।

ঘটনার পর মুহূর্তে এলাকায় ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই খবর দেন জলেশ্বর থানায়। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় জলেশ্বর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই মৃত্যু হয় চালক শেখ আবদুলের। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পরে বালেশ্বর জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে জলেশ্বর হাসপাতালেই।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসটি ওডিশার জাজপুর থেকে কলকাতার বাবুঘাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। বাসে ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “রাত দু’টো নাগাদ আমরা একটা বিকট শব্দ শুনে ছুটে যাই। দেখি বাসটা ট্রাকের পেছনে ঢুকে গেছে। কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছিলেন।”

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত গতি এবং অপ্রতুল আলোই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। তদন্তে দেখা হচ্ছে বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ড্রাইভারের ডিউটি আওয়ারও। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য ফরেনসিক ও যানবাহন বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, “হাইওয়েতে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। রাতের অন্ধকারে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাব বড় সমস্যা। আমরা ট্র্যাফিক ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় করছি।”

এই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলেই হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।