দেশজুড়ে কৌতূহল, শিল্পমহলে জল্পনা, মধ্যবিত্তের মনে আশা—আজ সংসদে পেশ হতে চলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭। আর এই বাজেট ঘিরে বিশেষ নজর এক ব্যক্তির দিকে— নির্মলা সীতারামন।
কারণ, এ বার তিনি টানা নবমবার বাজেট পেশ করতে চলেছেন। স্বাধীন ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এটি এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। অর্থনীতির ভাষায় যেমন এটি গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
রবিবার সকালে লোকসভা-তে বাজেট বক্তৃতা দেবেন অর্থমন্ত্রী। পরে বাজেটের নথি পেশ করা হবে রাজ্যসভা-য়।
এই বাজেট হবে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকারের তৃতীয় দফার তৃতীয় বাজেট।
ফলে সরকারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রোডম্যাপ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভোটের আগে বড় বার্তা— সব কিছুই লুকিয়ে রয়েছে এই বাজেটে।
২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই বাজেট পেশ করছেন সীতারামন।
এই ধারাবাহিকতায় তিনি এখন দেশের অন্যতম দীর্ঘতম মেয়াদের অর্থমন্ত্রী।
শুধু প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই দশটি বাজেট পেশ করেছিলেন— যদিও টানা নয়।
সেই তুলনায় সীতারামনের ধারাবাহিকতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
বাজেট তৈরির আগে প্রায় এক মাস ধরে নানা স্তরে আলোচনা হয়েছে—
কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান-ও আলাদা করে কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।
এছাড়াও সাধারণ নাগরিক ও যুব সমাজের কাছ থেকেও অনলাইনে মতামত নেওয়া হয়েছে।
বাজেট প্রক্রিয়ার এক অনন্য রীতি— ‘হালুয়া অনুষ্ঠান’।
নর্থ ব্লক-এ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয় ‘লক-ইন’ পর্যায়।
এই সময় বাজেট তৈরিতে যুক্ত আধিকারিকরা বাইরে যোগাযোগ ছিন্ন করে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কাজ করেন, যাতে কোনও তথ্য ফাঁস না হয়।
এ বারের বাজেটে সাধারণ মানুষের চোখ—
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও স্টার্টআপ ক্ষেত্রের জন্য বড় ঘোষণা আসতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজেট পেশের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩০ জন কলেজ পড়ুয়ার সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন অর্থমন্ত্রী।
সরকারের দাবি— নতুন প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশাকে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংখ্যার অঙ্ক ছাড়াও এই বাজেট রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে— উন্নয়ন বনাম বাস্তবতা, প্রতিশ্রুতি বনাম প্রত্যাশা।
তাই আজ সংসদের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।
সীতারামনের নবম বাজেট— শুধু অর্থনীতি নয়, ইতিহাসও লিখবে।
Comments (0)