কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :০২ জানুয়ারি ২০২৬

 

ভারতের রেল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। স্বাধীনতার ৮০ বছরে, ২০২৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন চালু হওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী Ashwini Vaishnaw। মুম্বই–আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডরের আওতায় ধাপে ধাপে পরিষেবা শুরু হবে এই অত্যাধুনিক ট্রেনের।

বৃহস্পতিবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে সুরত থেকে বিলিমোরা অংশে বুলেট ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ভাপি–সুরত, ভাপি–আহমেদাবাদ, থানে–আহমেদাবাদ এবং সবশেষে মুম্বই–আহমেদাবাদ পুরো রুট চালু করা হবে।

মোট ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি গড়ে উঠছে Sabarmati (আহমেদাবাদ) থেকে Mumbai পর্যন্ত। এই রুটে বুলেট ট্রেন সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারবে। পুরো করিডর সম্পূর্ণ হলে মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ যেতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট।

রেলমন্ত্রী জানান, যদি ট্রেনটি চারটি স্টেশনে থামে, তাহলে যাত্রাপথ শেষ হবে ১ ঘণ্টা ৫৮ মিনিটে। তবে সব মিলিয়ে ১২টি স্টেশনে দাঁড়ালে সময় কিছুটা বাড়বে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে ৫০ কিলোমিটার রুটে উদ্বোধনী যাত্রার কথা থাকলেও, সেই পরিকল্পনা বদলেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালের আগস্টে সুরত থেকে ভাপি পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথে প্রথম বুলেট ট্রেন ছুটবে।

এই প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল ২০১৭ সালে। লক্ষ্য ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক জটিলতা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সময়সীমা পিছিয়ে যায়।

গত নভেম্বর মাসে Narendra Modi সুরতের নির্মীয়মাণ বুলেট ট্রেন স্টেশন পরিদর্শন করেন। প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি কাজের অগ্রগতি, গতি এবং সময়সীমা নিয়ে খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে প্রকল্প নির্ধারিত গতিতেই এগোচ্ছে।

এদিন প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দেন, এই প্রকল্পে পাওয়া অভিজ্ঞতা যদি ‘ব্লু বুক’-এর মতো নথিভুক্ত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও দ্রুত ও বড় পরিসরে বুলেট ট্রেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে না গিয়ে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বুলেট ট্রেন শুধু যাতায়াতের সময় কমাবে না, বরং ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা দেবে বিশ্বকে। স্বাধীনতা দিবসে এই পরিষেবা চালু হলে, তা নিঃসন্দেহে দেশের রেল ইতিহাসে এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।