কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১৭ নভেম্বর

বিহার নির্বাচনের ভরাডুবির পর থেকেই রাজনৈতিক অন্দরমহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবের মেয়ে, রোহিনী আচার্যের বিস্ফোরক অভিযোগ ও আবেগঘন ঘোষণা ঘিরে। পরিবারের প্রতি ‘অপমান, লাঞ্ছনা, বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ এনে তিনি শুধু রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়াননি, বরং নিজের পরিবার থেকেও আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

রবিবার একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রোহিনী দাবি করেছেন, তাঁকে ‘জঘন্য ভাষায় গালাগালি’ করা হয়েছে, এমনকি ‘চটি উঁচিয়ে মারার চেষ্টা’ পর্যন্ত করা হয়েছে। তাঁর কথায়,
“গতকাল এক কন্যা, এক বোন, এক মা—তাকে অপমানিত করা হল। শুধু নিজের আত্মসম্মান রক্ষার জন্য আমাকে এই লাঞ্ছনা সহ্য করতে হল।”

রোহীনির দাবি, এই অপমানের পিছনে রয়েছেন তাঁর ভাই তেজস্বী যাদবের দুই ঘনিষ্ঠ সহকারী—সঞ্জয় যাদব ও রমিজ।
তিনি লেখেন,
“আমার কাঁদতে থাকা বাবা-মা, বোনদের রেখে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলাম। আমাকে আমার মাতৃগৃহ থেকে ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে।”

https://twitter.com/i/status/1989724006501814743

অপর এক পোস্টে তিনি জানান, তাঁকে নানাভাবে কুৎসা রটানো হয়েছে—
“আমাকে বলা হয়েছে বাবাকে কিডনি দেওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকা নিয়েছি, সেই টাকার বিনিময়ে টিকিট কিনেছি। এসব নোংরা অভিযোগ সহ্য করা যায় না।”

৪৬ বছর বয়সী রোহিনী পেশায় চিকিৎসক। বিদেশে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন। গত লোকসভা নির্বাচনে সারণ কেন্দ্রে লড়াই করেও পরাজিত হন। রাজনীতিতে যোগদান ছিল তাঁর পারিবারিক মাটির টান থেকে, কিন্তু আজ সেই সম্পর্কই সবচেয়ে তিক্ত।

রোহিনী সংবাদমাধ্যমে বলেন,
“আমার পরিবার এখন আর আমার নয়। আমার পরিবার তেজস্বী, সঞ্জয় যাদব আর রমিজ। ওরাই আমাকে পরিবার থেকে বের করে দিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন,
“এই দু’জনের নাম নিলেই অপমান করা হয়, গালিগালাজ করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।”

https://twitter.com/i/status/1989721769029374109

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বড়দা তেজ প্রতাপ যাদবকে দল থেকে বহিষ্কারের পর থেকেই রোহিনীর মধ্যে অসন্তোষ জমে ছিল। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তাঁকে তেজস্বীর পাশে দেখা গিয়েছে।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির ফল ভয়াবহ। আগের ৭৫ আসন থেকে নেমে ২৪—আর মহাগঠবন্ধনের মোট আসন মাত্র ৩৫।
পার্টির ভিতরে ক্ষোভ বাড়ছে, নেতৃত্বে প্রশ্ন উঠছে, এবং সেই অস্থিরতার আগুনেই যেন ঘি ঢেলেছে রোহিনীর বিস্ফোরক পোস্ট।

রোহিনীর অভিযোগ ঘিরে বিজেপি আরজেডিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছে।
বিজেপি নেতা অমি মালব্য বলেন—
“যে মেয়ে বাবাকে বাঁচাতে কিডনি দান করেছিল, তাকেই আজ উপেক্ষা করা হয়েছে। এটাই লালু পরিবারের প্রকৃত চরিত্র।”

নিশিকান্ত দুবে আরও এক ধাপ এগিয়ে তেজস্বীকে তুলনা করলেন মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে—
“যেভাবে ঔরঙ্গজেব নিজের বাবাকে বন্দি করে ক্ষমতা দখল করেছিল, তেমনই আচরণ করছেন তেজস্বী।”

রোহিনী আচার্যের আকস্মিক ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন ফেলেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দলের ভিতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নির্বাচনী ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে আরজেডির সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা।
তবে রোহিনী জানিয়েছেন—
“আমার পথ কেউ অনুসরণ করবেন না। আমার মত কন্যা বা বোন আর কোনও পরিবারের না হোক।”

তার কথায়, আত্মসম্মানই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে— এবং সেই কারণেই তিনি আজ সম্পূর্ণ একা।