কলকাতা টাইমস নিউজ :কলকাতা :২০ নভেম্বর
দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্ব, শেখ হাসিনা প্রসঙ্গেও দৃষ্টি কূটনৈতিক মহলের !
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে :
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’ (CSC)-এর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্মেলন। তার ঠিক এক দিন আগেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হল গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে খলিলুর রহমানের বুধবার দিল্লিতে আসার কথা থাকলেও তিনি এক দিন আগেই, মঙ্গলবার রাতেই রাজধানীতে পৌঁছান। তাঁর আগাম সফর নিয়েও কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কারণ, ঠিক এর আগের দিনই ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়।
উল্লেখ গত অগস্ট থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটেই ভারত–বাংলাদেশ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।
যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি বিবৃতিতে বৈঠকের কথা জানানো হলেও আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রের অনুমান—
-
দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিনিময়,
-
সীমান্ত সুরক্ষা ও নজরদারি,
-
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ,
-
গণবিক্ষোভ পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থায় সন্ত্রাস দমন ও চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণ,
—এই বিষয়গুলি মূল আলোচনায় থাকতে পারে।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের একটি বড় অংশ বলছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে দুই দেশের নিরাপত্তা সমন্বয় ও আস্থা পুনর্গঠনের দিকেই জোর দিচ্ছে ঢাকা ও দিল্লি।
প্রসঙ্গত কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ মূলত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশের নিরাপত্তা জোট— ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং মরিশাস। আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শুরু হতে চলা এই সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবেন খলিলুর রহমান।
ইতিমধেয় অজিত ডোভাল গত অক্টোবরে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ থেকে এটাই প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ঢাকায় গণবিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথমবার দিল্লি সফরে এলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ফলে, শুধু সম্মেলন নয়, দিল্লি–ঢাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নিয়েও এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
Continue With Google
Comments (0)