কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :৩১ ডিসেম্বর

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে সামনে চলে এল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাহিত্যিক সেন্সরশিপ এবং নির্বাসনের যন্ত্রণা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-র মৃত্যুর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন অথচ তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তুলে ধরলেন নির্বাসিত লেখিকা Taslima Nasrin— “ এই মৃত্যু কি আমার ৩১ বছরের নির্বাসনের সমাপ্তি ঘটাবে ?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তসলিমা স্মরণ করান, খালেদা জিয়ার শাসনকালেই একের পর এক তাঁর লেখা বই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, একজন ধর্মনিরপেক্ষ, মানবতাবাদী ও নারীবাদী লেখক হিসেবে তিনি মৌলবাদী শক্তির বিরাগভাজন হন, আর সেই চাপের কাছেই নতিস্বীকার করেছিল তৎকালীন সরকার।

তসলিমার ভাষায়,“একজন মুক্তচিন্তক লেখকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। শেষ পর্যন্ত আমাকে অন্যায় ভাবে নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।”

‘লজ্জা’ থেকে ‘ক’—নিষিদ্ধ সাহিত্য তালিকা

তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে স্মরণ করান,

  • ১৯৯৩ সালে প্রথম নিষিদ্ধ হয় তাঁর বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘লজ্জা’

  • পরে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হয় ‘উতল হাওয়া’ (২০০২) এবং ‘ক’ (২০০৩)

এই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকি, ফতোয়া ও সহিংসতার ভয় তাঁর জীবনে নেমে আসে বলে দাবি করেন তিনি।

তসলিমার অভিযোগ, Bangladesh Nationalist Party-ঘনিষ্ঠ মৌলবাদী সংগঠনগুলির চাপেই তাঁকে ১৯৯৪ সালে প্রথমে সুইডেনে পালাতে হয়।
প্রায় এক দশক পরে তিনি আশ্রয় নেন India-তে।
এই দীর্ঘ নির্বাসনকেই তিনি বলেছেন—“একজন লেখকের জন্য সবচেয়ে কঠিন শাস্তি”।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তসলিমার মূল প্রশ্ন—

  • নিষিদ্ধ বইগুলির উপর থেকে কি নিষেধাজ্ঞা উঠবে?

  • লেখকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি অবশেষে স্বীকৃতি পাবে?

তাঁর কথায়, “ আমি আর কিছু চাই না। অন্তত যদি এই মৃত্যুর পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়, তাতেই আমি সন্তুষ্ট। ”

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় প্রয়াত হন খালেদা জিয়া। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ২০০৬ সালের পর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বিএনপি-র উপর তাঁর প্রভাব ছিল অটুট।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরা খালেদা-পুত্র Tarique Rahman আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে পারেন।
এই প্রেক্ষিতেই তসলিমার আশঙ্কা—ক্ষমতা বদলালেও কি মানসিকতা বদলাবে ?

একজন শাসকের মৃত্যু ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়। কিন্তু এক জন লেখকের নির্বাসন—সে কি শুধুই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা, নাকি গোটা সমাজের ব্যর্থতার দলিল ?
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তসলিমার এই প্রশ্ন শুধু তাঁর নিজের নয়—এ প্রশ্ন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকেও ছোড়া এক কঠিন তাক।