কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি :১৯ ডিসেম্বর
প্রচণ্ড রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার লোকসভা ও রাজ্যসভা—দু’কক্ষেই পাস হয়ে গেল ‘ভিবি–জিরামজি বিল’। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প মনরেগার (MGNREGA) নাম পরিবর্তন করে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরানোর প্রতিবাদে তীব্র বাকবিতণ্ডা, ওয়াকআউট, কটাক্ষ—সবকিছু সত্ত্বেও ধ্বনি ভোটে কেন্দ্র ওই বিলটি পাস করায় বিরোধীরা রাতভর সংসদ প্রাঙ্গণে ধর্নায় বসে প্রতিবাদ জানান।
বিলটি লোকসভায় উপস্থাপিত হতেই কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ বিরোধী শিবিরে বিস্ফোরণ ঘটে। তাঁদের অভিযোগ—মনরেগার নতুন নাম ‘ভিবি–জিরামজি’ করে প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম তুলে দিয়ে জাতির জনককে অপমান করা হয়েছে।
রাজ্যসভায় বিলটি ওঠার পরও একই দৃশ্য। প্রবল শোরগোল, স্লোগান, আপত্তি—সব কিছুর মধ্যেই শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ধ্বনি ভোটে পাস হয়ে যায় বিল।
বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দলের সাংসদরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। এরপর রাত গভীর পর্যন্ত সংসদ চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, বাম দল—সবাই মিলে অভিযোগ করেন,
“নতুন বিলে গরিব মানুষের কোনও লাভ নেই। বরং প্রকল্পের নাম বদলে মহাত্মা গান্ধীকে ‘প্রতীকীভাবে হত্যা’ করা হয়েছে।”
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন—“গান্ধীজীর আদর্শ অনুযায়ীই চলেছে কেন্দ্র। নতুন বিলে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি রয়েছে। দুর্নীতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা থাকবে, প্রকল্প হবে একেবারে স্বচ্ছ।” তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্প গ্রামীণ উন্নয়নে ঐতিহাসিক অবদান রাখবে।
অন্যদিকে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বক্তব্য—
“রামের নাম করে যে আইন আনা হচ্ছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে দরিদ্র মানুষের।”
তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পের মূল দর্শনকে বিকৃত করা হচ্ছে।
বিরোধীদের আরও অভিযোগ, নতুন প্রকল্পে রাজ্যগুলিকে ৪০ শতাংশ ব্যয়ভার বহন করতে হবে—যা আর্থিকভাবে দুর্বল রাজ্যগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। এই নিয়ম নিয়ে বিরোধীরা কঠোর আপত্তি জানান এবং বলেন কেন্দ্র নিজের দায় রাজ্যের ঘাড়ে চাপাচ্ছে।
নাম বদল নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়—এটি মানসিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যগত আবেগের সঙ্গেও জড়িত। মনরেগা বহু বছর ধরে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অন্যতম স্তম্ভ। সেই প্রকল্প থেকেই মহাত্মা গান্ধীর নাম সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিরোধীদের চোখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
Continue With Google
Comments (0)