কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :৩০ নভেম্বর
সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে সোমবার। চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মাত্র ১০ কর্মদিবসের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে—এই অধিবেশনে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিল পেশ করা হবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির প্রধান ফোকাস SIR—States Integrity Review নিয়ে বিস্তৃত আলোচায়।
রবিবার অধিবেশনের আগে অনুষ্ঠিত হল একটি সর্বদলীয় বৈঠক। কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, বৈঠকটি ছিল “ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ।” দেশের ৩৬টি রাজনৈতিক দলের মোট ৫০ জন প্রতিনিধি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সরকারের বার্তা: শান্ত, বাধাহীন, গঠনমূলক অধিবেশন প্রয়োজন
কিরেন রিজিজু জানান—
“সংসদে বিতর্ক হওয়া উচিত সম্পূর্ণ গঠনমূলক। আশা করি কেউ উত্তেজনা ছড়াতে চাইবে না। শান্ত মাথায় আলোচনা করলে দেশেরই উপকার হবে। আমরা চাই অধিবেশন নির্বিঘ্নে চলুক।”
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—বিল পাস, নীতি আলোচনা ও নতুন পরিকাঠামো বাস্তবায়নে এবার দ্রুততা প্রয়োজন।
১৪টি প্রস্তাবিত বিল: কোনগুলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
শীতকালীন অধিবেশনে যে ১৪টি বিল পেশ হতে চলেছে, তার মধ্যে কয়েকটি বিশেষভাবে নজরকাড়া:
১. পারমাণবিক শক্তি বিল, ২০২৫
পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি সংস্থার সীমিত অংশগ্রহণের পথ খুলে দেবে এই বিল।
২. উচ্চ শিক্ষা কমিশন বিল, ২০২৫
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন ও গবেষণাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই বিল পেশ হবে।
তালিকায় আরও রয়েছে—
-
জন বিশ্বাস (বিধান সংশোধন) বিল, ২০২৫
-
দেউলিয়া ও দেউলিয়া কোড (সংশোধন) বিল, ২০২৫
-
মণিপুর গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স বিল, ২০২৫
-
প্রত্যাহার ও সংশোধন বিল, ২০২৫
-
জাতীয় মহাসড়ক (সংশোধন) বিল, ২০২৫
-
কর্পোরেট আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৫
-
সিকিউরিটিজ মার্কেটস কোড বিল, ২০২৫
-
বিমা আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৫
-
অরবিট্রেশন অ্যান্ড কনসিলিয়েশন (সংশোধন) বিল, ২০২৫
-
কেন্দ্রীয় আবগারি (সংশোধন) বিল, ২০২৫
-
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জাতীয় সুরক্ষা কর বিল, ২০২৫
এবার স্পষ্ট—সংসদের এই সেশনটি মূলত অর্থনীতি, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে কেন্দ্র করেই আগাবে।
বিরোধীদের মূল লক্ষ্য: ‘SIR’ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা
বিরোধী দলগুলির প্রধান দাবি—
SIR (States Integrity Review) নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় সরকার বাধা দিতে পারবে না।
গত কয়েকমাস ধরে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তাদের অভিযোগ:
বিরোধীদের প্রধান দাবি
-
SIR-এর মেয়াদ বৃদ্ধি দেখাচ্ছে কমিশন সময়মতো কাজ শেষ করতে ব্যর্থ।
-
SIR দ্রুত করতে গিয়ে নির্বাচন ও প্রশাসনে চাপ তৈরি হচ্ছে।
-
দিল্লির বিস্ফোরণের পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যর্থতা হয়েছে, SIR-এ তার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
-
প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনায় উপস্থিত থাকতে হবে।
কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি বলেন—
“প্রায় প্রতিটি বিরোধী দল SIR নিয়ে আলোচনা চেয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিজেদের কাজ দ্রুত শেষ করতে না পারার দায় এড়াতে পারে না।”
তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, শিরোমণি আকালি দল—সকলেই একই দাবি তুলেছে।
অধিবেশনের রাজনৈতিক গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে—
এই শীতকালীন অধিবেশন ২০২৫-এর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বড় ভূমিকা রাখবে।
যে সমস্ত বিল পাস হবে, তা দেশের অর্থনীতি ও উচ্চশিক্ষা কাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিরোধীদের দাবি—SIR নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করা তাদের প্রধান প্রস্তুতি।
এখন দেখার—সংক্ষিপ্ত হলেও এই অধিবেশন কতটা কার্যকরী হতে পারে।
Continue With Google
Comments (0)