কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :০৮ ডিসেম্বর

 

নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে উঠে আসতে পারে বহু অপ্রচলিত তথ্য, ১০ ঘণ্টার উত্তপ্ত বিতর্কের প্রস্তুতি বিরোধীদের !

লোকসভায় আজ সোমবার দেশজুড়ে বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে সংসদ। ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার বিশেষ আলোচনা—যা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আর সমাপনী ভাষণ দেবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

আলোচনার আগে সরকারি শীর্ষ মহল সূত্রে জানা গেছে, বন্দে মাতরমের ইতিহাসের বহু অজানা অধ্যায় আজ সংসদের মাধ্যমে সামনে আসবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই বিষয়ে বিস্তৃত বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি শিবির থেকে তীব্র আক্রমণের আশঙ্কা করেই কংগ্রেস তৈরি করেছে শক্তিশালী বক্তাদের তালিকা। বিশেষ করে প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ভূমিকা, এবং তাঁর সময়ে কেন ‘বন্দে মাতরম’-এর নির্দিষ্ট স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়েই তৃণমূল ও কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

কংগ্রেসের তরফে প্রথম বক্তা হিসেবে উঠবেন গৌরব গগৈ। এরপর ক্রমানুসারে বক্তব্য রাখবেন—

  • প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা

  • দীপেন্দ্র সিং হুডা

  • বিমল আকইজম

  • প্রণীতি শিন্ডে

  • প্রশান্ত পাডোল

  • চামালা রেড্ডি

  • জ্যোৎস্না মহন্ত

অপরদিকে সরকারি পক্ষের দাবি—১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ও নেহরুর সিদ্ধান্তই ‘বন্দে মাতরম’-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাদ দেয়।
মোদী আগে বলেছেন,

“বন্দে মাতরম দেশকে স্বাধীনতার লড়াইয়ে পথ দেখিয়েছে। অথচ ১৯৩৭ সালে গানটির আত্মা ছিন্ন করা হয়েছিল। এই বিভাজন দেশের বিভক্তির বীজ বপন করেছিল। আজকের প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানা জরুরি।”

১৯৩৭ সালের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে গানটির প্রথম দুই স্তবক গ্রহণ করা হয়, কারণ পরবর্তী স্তবকে মাতৃরূপী দুর্গার উল্লেখ ছিল। নেহরুর মতে, এগুলি মুসলিম সমাজকে উত্তেজিত করতে পারে—এমন উদ্বেগ তাঁর চিঠিপত্রে প্রকাশ পায়।

ঐতিহাসিক সব্যসাচী ভট্টাচার্যের বই “Vande Mataram: The Biography of a Song”-এ উল্লেখ রয়েছে—

  • নেতাজি গোটা গান গ্রহণের পক্ষপাতী ছিলেন

  • গানটি বোঝার জন্য নেহরু ইংরেজি অনুবাদ পড়েছিলেন

  • ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি প্রথম অংশের ভক্তি ও কোমল ভাবেই আকৃষ্ট

এই তথ্য আজকের বিতর্কে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসবে বলে ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্প্রতি পাত্র বলেছেন—

“নেহরু বলেছিলেন, বন্দে মাতরম মুসলিম সমাজকে উত্তেজিত করবে—এই ভুল ধারণার সেকুলারিজ়মই আজ আলোচনার বিষয়। নেহরুর উত্তরাধিকার আজ আবার সংসদে প্রশ্নের মুখে পড়বে।”

বন্দে মাতরম: একটি অমর ইতিহাস

  • ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেন

  • একই দিনে এটি প্রকাশিত হয় ‘বঙ্গদর্শন’-এ

  • ১৮৮২ সালে তাঁর উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ গানটি স্থান পায়

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরবর্তীতে সুরারোপ করেন

  • ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গানটির প্রথম দুই স্তবককে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়

আজকের বিতর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

  • স্বাধীনতার ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায় নিয়ে জাতীয় মঞ্চে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা

  • নেহরুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আবার আলোচনার কেন্দ্রে

  • কংগ্রেস–বিজেপি মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা

  • তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘বন্দে মাতরম’-এর অজানা অধ্যায় তুলে ধরা

আজকের আলোচনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নতুন করে সামনে আসবে বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদ ও সংসদ বিশেষজ্ঞরা।