কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২১ ডিসেম্বর
বজবজের ‘সেবাশ্রয়–২’ শিবিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—রোগী–চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ, ভোটের আগে তৎপরতা বাড়াল তৃণমূল !
বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ডায়মন্ড হারবারে নিজের সাংসদীয় এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়াচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে শনিবার তিনি পৌঁছান দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়–২’ শিবিরে। শুধু শিবির পরিদর্শনই নয়—রোগী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষদের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটান অভিষেক, শুনলেন তাঁদের সমস্যার কথা, জানালেন আশ্বাসও।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা যায়, ‘সেবাশ্রয়–২’ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য—
-
স্বাস্থ্য পরিষেবা,
-
সরকারি স্কিমের তথ্য,
-
সামাজিক সুরক্ষার পরিষেবা,
-
প্রশাসনিক সহায়তা,
সবকিছু এক জায়গায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
আগের ‘সেবাশ্রয়’-এর বিশাল সাফল্যের পর দ্বিতীয় পর্যায়ের শিবিরকেও দলীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় ভোটের আগে ‘মাঠ পর্যায়ের কাজে’ এই প্রকল্প যে তৃণমূলের অন্যতম ভরসা, তা স্পষ্ট।
সম্প্রতি বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবারই দিল্লিতে যুবভারতী কাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছিলেন অভিষেক। ফলে বজবজের শিবিরে তিনি আবার কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেন কি না—তা নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। যদিও এ দিন তিনি মূলত মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং পরিষেবা পর্যালোচনাতেই বেশি গুরুত্ব দেন।
শিবিরে অভিষেকের উপস্থিতি ঘিরে ছিল উৎসাহ। তিনি আলাদাভাবে কথা বলেন—চিকিৎসকদের সঙ্গে,শিবিরে আসা রোগীদের সঙ্গে,স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে,এবং প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে।
অনেকেই চিকিৎসা ও সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা নিয়ে সমস্যার কথা জানান। অভিষেক জানান, প্রতিটি অভিযোগ তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।
উল্লেখ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডায়মন্ড হারবারে শুরু হয়েছিল ‘সেবাশ্রয়’। ৭৫ দিন ধরে প্রতিটি বিধানসভায় ঘুরে চোখ–কান–গলা, ব্লাড সুগার–প্রেশার, এমনকি ক্যানসারের প্রাথমিক স্ক্রিনিং-এর মতো পরিষেবা দেওয়া হয়।রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ শিবিরে ভিড় করেছিলেন। সেই জনপ্রিয়তার জোরেই দ্বিতীয় পর্যায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে—অভিষেকের ধারাবাহিক জনসংযোগ,সামাজিক পরিষেবায় সরাসরি অংশগ্রহণ,মাঠে নেমে মানুষের সমস্যা শোনা,সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূল সংগঠনে তাঁর প্রভাব আরও দৃঢ় হচ্ছে। এবং তা ২০২৬-এর নির্বাচনে দলের অন্যতম শক্তির উৎস হতে পারে।
Continue With Google
Comments (0)