কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৯ অক্টোবর
আবারও টাকার পাহাড়ে ঢাকা পড়ল শহর কলকাতা। বুধবার সকালে তারাতলার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)।
তল্লাশি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘরে ঘরে মেলে গাদা গাদা টাকা। এখনো পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার বেশি, তবে তদন্তকারীদের মতে, সেই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে—কারণ টাকা গোনা এখনও চলছে।
ইডির এক আধিকারিক জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এই বিপুল পরিমাণ নগদের উৎস পুর নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রতিটি বান্ডিল পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাত থেকেই নজরদারির কাজ শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সেই সূত্রেই বুধবার সকালে হানা দেওয়া হয় তারাতলার ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে।
তল্লাশি অভিযান ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে অন্তত ৬ জন ইডি আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এটি শুধু একদিনের অভিযান নয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে পুর নিয়োগ মামলায় টানা তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।
এই মাসের শুরুতেই অন্তত ১০টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়—বেলেঘাটা, ঠনঠনিয়া, নাগেরবাজার, শরৎ বোস রোড, নিউ আলিপুর এবং সল্টলেক সেক্টর ওয়ান–এ একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
সল্টলেকের যে ভবনে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেটি রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর দফতর বলেই জানা গেছে।
এছাড়া নাগেরবাজারে এক কাউন্সিলরের বাড়ি, বেলেঘাটায় এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাসভবন, এবং মন্ত্রীর ছেলের ধাবাতেও চলে তল্লাশি। এমনকি একটি রেস্টুরেন্ট এবং এক অডিটরের দফতরও তদন্তের আওতায় আসে।
ইডি সূত্রে খবর, এই সমস্ত জায়গা থেকেই পুর নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু নথি, ডিজিটাল ডেটা এবং লেনদেনের রেকর্ড উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন সেই নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন, কারা এই আর্থিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং টাকার উৎস আসলে কোথা থেকে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে লেকটাউনে মন্ত্রী সুজিত বসুর দুটি বাড়ি ও তাঁর দফতরে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
১৪ ঘণ্টা ধরে চলা সেই তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সুজিতের মোবাইল ফোন, যা বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।
ইডি আধিকারিকদের মতে, “পুর নিয়োগে ঘুষ ও আর্থিক লেনদেনের যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, সেটি শহরের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে আছে। আমরা এখন ধীরে ধীরে সেই চক্রের মাথাদের কাছে পৌঁছতে চাইছি।”
এদিকে, শহরের মানুষদের মনে একটাই প্রশ্ন—কোথা থেকে আসছে এত নগদ টাকা?
দুর্নীতির এই পাহাড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের আস্থা।
শহর জুড়ে এখন একটাই আলোচনা—কলকাতা কি আবারও দেখছে নগদে ঢাকা দুর্নীতির নতুন অধ্যায়?
কলকাতায় ফের বিপুল অর্থ উদ্ধারে চাঞ্চল্য। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হানায় তারাতলার এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, যা আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। ইডির ধারাবাহিক অভিযানে কলকাতার একাধিক এলাকা জুড়ে চলছে দুর্নীতি-তদন্ত।
Continue With Google
Comments (0)