উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে ফের কেন্দ্রবিন্দুতে উন্নয়ন বনাম বিশ্বাসযোগ্যতা। সেবকের ঐতিহাসিক করোনেশন সেতুর বিকল্প সেতু নির্মাণের জন্য ১১৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে বিধানসভা নির্বাচনের বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। বহুদিনের দাবিতে সাড়া মিলেছে—এই বার্তাকে সামনে রেখে পাহাড়–ডুয়ার্স–তরাই অঞ্চলে ভোটের ময়দানে ঝাঁপাচ্ছে গেরুয়া শিবির।
সেবকের করোনেশন সেতু উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন। দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্স ও তরাইকে যুক্ত করা এই সেতু ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প সেতুর দাবি ছিল। এবার সেই দাবির বাস্তব রূপ দিতে ১১৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিজেপির লক্ষ্য—নকশালবাড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত ১০টিরও বেশি বিধানসভা আসনে কেন্দ্রের ভূমিকা জোরদার করে প্রচার চালানো।
সোমবার মালবাজার বিধানসভার ওদলাবাড়িতে বিজেপির ‘পরিবর্তন সভা’-য় এই প্রকল্পকে সামনে আনবেন সাংসদ Raju Bista—এমনটাই দলীয় সূত্রের খবর।
উত্তরবঙ্গের তিন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা বাপি গোস্বামীর বক্তব্য,
“টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় কেন্দ্র সরকারের কৃতিত্ব মানুষকে জানানো হবে। ২০২৯-এর মধ্যেই বিকল্প সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করা সম্ভব।”
দলের মতে, এই সেতু তৈরি হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা ও পর্যটন সুবিধা পাবে—এ নিয়ে সংশয় নেই। তাই বিধানসভা ভোটে এটিই হতে চলেছে বিজেপির প্রধান এজেন্ডাগুলির একটি।
তবে রাজ্য সরকারের তরফে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী Udayan Guha বলেন,
“রেল ও সেনাবাহিনীর কাজ ছাড়া অন্য প্রকল্পে কেন্দ্র–রাজ্যের যৌথ অংশগ্রহণ থাকে। বরাদ্দের বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”
প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী Ashok Bhattacharya আরও কড়া ভাষায় বলেন,
“এটি দীর্ঘদিনের দাবি। আমি মন্ত্রী থাকাকালীন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী T R Baalu-কে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করিয়েছিলাম। বিজেপি কাজ কম করে, প্রচার বেশি করে। কিন্তু মানুষ এত বোকা নয়।”
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই বিকল্প সেতু ইস্যু হয়েছিল। তখন ভোটপ্রচারে Amit Shah সেতুর নাম ‘চিলা রায়’ রাখার কথাও বলেছিলেন, যদিও পরে সেই নামকরণ থেকে সরে আসে বিজেপি।
সেতুর পাশাপাশি বিজেপির আর এক ‘উন্নয়ন অস্ত্র’—সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত রেল প্রকল্প। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাজ দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতীকী ভাবে সেবক থেকে অল্প দূরত্বে একটি রেল ইঞ্জিন উদ্বোধন করে চালু করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে—এমনটাই দলীয় সূত্রের দাবি।
করোনেশন সেতুর বিকল্প সেতু এবং সেবক–রংপো রেলপথ—এই ‘জোড়া উন্নয়ন ফলায়’ উত্তরবঙ্গে আসনসংখ্যা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিজেপি।
উত্তরবঙ্গে বিজেপি যেখানে উন্নয়ন প্রকল্পকে ভোটের মূল অস্ত্র বানাচ্ছে, সেখানে তৃণমূল প্রশ্ন তুলছে বাস্তবায়ন ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। এই দ্বন্দ্বে শেষ হাসি কে হাসবে—তা নির্ধারণ করবে ভোটার। আপাতত পাহাড়–ডুয়ার্স–তরাই জুড়ে বিকল্প সেতু ও রেল প্রকল্পই হয়ে উঠছে নির্বাচনের অন্যতম কেন্দ্রীয় ইস্যু।
Comments (0)