কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২০ নভেম্বর

বারাসত–কলকাতা রুটে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শিয়ালদহ–বনগাঁ লোকালে ‘বাদুড়ঝোলা’ ভিড়, যশোহর রোড–এয়ারপোর্টের যানজট—সব মিলিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতার সংযোগ আরও মসৃণ করার প্রয়াসে আবারও গতি পাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বারাসত–নোয়াপাড়া মেট্রো প্রকল্প।
এই আবহেই মেট্রো কর্তৃপক্ষ মধ্যমগ্রামে অতিরিক্ত একটি নতুন স্টেশন করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুরসভার কাছে।

মধ্যমগ্রামের যশোহর রোড সংলগ্ন বোস ইনস্টিটিউটের পাশে একটি নতুন স্টেশন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠিয়েছে পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষকে।
চিঠিতে চাওয়া হয়েছে—

  • জমি কোন মৌজায়,

  • দাগ ও খতিয়ান নম্বর,

  • জমির বর্তমান বাজারদর—
    এই সমস্ত তথ্য।

চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ জানিয়েছেন,
“মঙ্গলবার চিঠি পেয়েছি। বিস্তারিত জমি-তথ্য চাওয়া হয়েছে। আলোচনা করে প্রত্যুত্তর পাঠানো হবে।”

কয়েক মাস আগে মাইকেলনগর–বারাসত করিডরে মাটি পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে মধ্যমগ্রাম ও বারাসত পুরসভায় আবেদন করেছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বারাসতের বাসিন্দাদের আশা বেড়েছে—এবার বুঝি বহু বছর ধরে থমকে থাকা মেট্রো প্রকল্প নতুন করে গতি পাবে।

বর্তমানে বারাসত–কলকাতা রুটে যে ট্র্যাফিক চাপ, তা কমাতে মেট্রো পরিষেবার বিকল্প নেই। যশোহর রোড ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে প্রতিদিনই এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ব্যাপক যানজট হয়। মেট্রো চালু হলে এই রুটে ভ্রমণ আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হবে।

২০১০–১১ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারাসত–নোয়াপাড়া মেট্রো ঘোষণার পর কাজ কিছুটা এগোলেও জমি-জটের কারণে মাঝপথে থেমে যায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও মাটির উপর দিয়ে লাইন গেলে নিরাপত্তাজনিত আপত্তি তোলে।
ফলে সিদ্ধান্ত হয়—মাইকেলনগর থেকে বারাসত পর্যন্ত পুরো অংশ হবে ভূগর্ভস্থ।

১২.৯৫ কিমির ভূগর্ভস্থ করিডরের রূপরেখা

মাইকেলনগর → গঙ্গানগর কাটাখাল → মধ্যমগ্রাম স্কাউট গ্রাউন্ড → যশোহর রোড (সমান্তরাল) → পূর্বাচল → কেএনসি রোড → কাছারি মাঠ → বর্ণালী সংঘ → রেলের কারশেড → শুঁড়িপুকুর

এই পুরো ১২.৯৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথেই শেষ হবে প্রসারিত মেট্রোরেল।

আটটি প্রস্তাবিত স্টেশন

১. বিধানপল্লি
২. মধ্যমগ্রাম চৌমাথা
৩. হৃদয়পুর
৪. বারাসত বিদ্যাসাগর স্টেডিয়াম
৫. কাছারি ময়দান
৬. বারাসত রেল কারশেড
৭. জয়পুর (এখানেই প্রস্তাবিত ডিপো)
৮. শুঁড়িপুকুর (১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন)

এবার নতুনভাবে যুক্ত হতে পারে—
➤ বোস ইনস্টিটিউট সংলগ্ন নতুন মধ্যমগ্রাম স্টেশন

নতুন স্টেশন হলে কী সুবিধা?

  • মধ্যমগ্রাম–বারাসত রুটে যাত্রী চাপ আরও ভালোভাবে সামলানো যাবে

  • কলেজ–অফিস যাত্রীদের জন্য সহজ সংযোগ

  • যশোহর রোড ও এয়ারপোর্ট রুটে যানজট কমবে

  • বাড়বে সম্পূর্ণ করিডরের কার্যকারিতা

  • উন্নত হবে পুরুলিয়া–বারাসত–কলকাতা সংযোগব্যবস্থা

পরবর্তী ধাপ কী?

মেট্রো কর্তৃপক্ষ জমির তথ্য সংগ্রহ করছে।
যথাযথ দাগ–খতিয়ান ও মূল্য নির্ধারণের পর জমি অধিগ্রহণ শুরু হতে পারে।
পরিকল্পনার সঙ্গে মিল থাকলে আগামী কয়েক মাসে প্রকল্পে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা।