কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :০৩ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনী রাজনীতিতে নজিরবিহীন দৃশ্য! শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার Baruipur-এর সভামঞ্চে ‘ভূতদের হাঁটা’ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। অভিযোগের ধরন এমনই ছিল যে সভাস্থলে উপস্থিত জনতা হাসিতে ফেটে পড়েন। তবে সভা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসে Election Commission of India।

কমিশন সূত্রে খবর, অভিষেকের বক্তব্যের পরেই জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-র কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় ভুলভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু সেই সংখ্যা সাধারণত খুবই কম। বারুইপুরের ঘটনায় ঠিক কী হয়েছে, তা দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে।

এসআইআর (Special Intensive Revision) আবহে রাজ্যজুড়ে প্রচারে নেমেছেন অভিষেক। ব্রিগেডের ধাঁচে বারুইপুরের সভায় তৈরি করা হয় একটি বিশেষ র‍্যাম্প। সেই র‍্যাম্পের দিকেই ইঙ্গিত করে অভিষেক বলেন,
“আজ এই র‍্যাম্পে তিন জন ‘ভূত’ হাঁটবেন। কমিশন যাঁদের মৃত বলেছে, তাঁরা আজ এখানে জীবন্ত প্রমাণ।”

এই কথার পরই মঞ্চে উঠে আসেন মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস। তাঁদের দিকে দেখিয়ে অভিষেকের কটাক্ষ—
“দেখে কি মৃত মনে হচ্ছে? এঁরা বেঁচে আছেন—আপনারা দেখছেন। কিন্তু কমিশন নাকি দেখতে পাচ্ছে না!”

অভিষেকের দাবি, দুই জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজে, এক জনের কাকদ্বীপে। তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ‘মৃত’ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে—এই অভিযোগেই ‘মৃতদের হাঁটা’ দেখানোর এই অভিনব প্রতিবাদ।

কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের সামনে এনে ‘মৃত’ দেখানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে—ওই দুই পুরুষ ও এক মহিলার প্রকৃত অবস্থান কী, তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে ডিইও-কে।
পাশাপাশি, জেলায় এভাবে আর কত জন জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানো হয়েছে বা খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

সভা থেকেই অভিষেকের রাজনৈতিক বার্তা আরও তীক্ষ্ণ। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে তিনি বলেন,
“একজনের নামও কাটতে দেব না। তৃণমূল দিল্লিতে যাবে, নেতৃত্ব দেবেন Mamata Banerjee। ভ্যানিশ কুমাররা তৈরি থাকুন—সবাই ভোটের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাবেন।”

এই মন্তব্যের পরেই কমিশনের অন্দরে চাপানউতোর শুরু হয়। দ্রুত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়।

ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্যে যে বিতর্ক দানা বাঁধছে, বারুইপুরের ঘটনা তারই প্রতীকী বিস্ফোরণ। কমিশনের রিপোর্টে কী উঠে আসে, তার উপরেই নির্ভর করবে এই বিতর্কের পরবর্তী মোড়। আপাতত নজর ডিইও-র রিপোর্ট আর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপে।