কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :১১ নভেম্বর

বিস্তারিত ফাল্গুনী রায়চৌধুরীর কলমে :

https://youtu.be/HEpYudITVm4  

CLICK HERE TO WATCH 👆

সিনেমা বাঙালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু বিনোদন নয়, এক গভীর অনুভব, এক আবেগ যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির সংস্কৃতি, শিল্পবোধ আর চিন্তার অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
বাঙালি সিনেমা ভালোবাসে, আর সেই ভালোবাসার উৎসবই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF 2025)।

প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের আবহে কলকাতা শহর সাজছে রঙিন ব্যানারে, পোস্টারে, আলোয় আর সিনেমার গন্ধে। নন্দন, রবীন্দ্র সদন থেকে ইনফোসিস অডিটোরিয়াম পর্যন্ত একটাই উন্মাদনা— সিনেমা দেখতে হবে!
হাতে কফি, কাঁধে ব্যাগ, আর চোখে আলো— বাংলার সিনেমাপ্রেমী মানুষ যেন বিশ্ব সিনেমার গল্পের মধ্যে খুঁজে নিচ্ছেন নিজের জীবনকথা।

সার্বিয়ার পরিচালক নিকোলা লেজাইক — ব্যক্তিগত গল্পে বিশ্বজনীন আবেদন

সার্বিয়া থেকে আগত তরুণ পরিচালক নিকোলা লেজাইক তাঁর ছবি “How come it’s all green out here?”-এ তুলে ধরেছেন নিজের পরিবারের এক শরণার্থী জীবনের কাহিনি। ঠাকুরমার রিফিউজি হওয়ার ইতিহাস, বাবার জীবনসংগ্রাম— এসবই যেন ব্যক্তিগত অথচ সার্বজনীন এক গল্প।
তিনি বলেন, “আমার ঠাকুরমার গল্প বললে, সেটা কেবল আমাদের নয়— পৃথিবীর প্রতিটি উদ্বাস্তু মানুষের গল্প।”
আর এখানেই সিনেমার প্রকৃত সার্থকতা— ভাষা, ভূগোল ও সংস্কৃতির সীমা ছাড়িয়ে মানবতার গল্প বলা।

সঞ্জয় ঘোষের ‘যোজনগন্ধা’ — নারীশক্তির অনন্ত লড়াই

বাংলার পরিচালক সঞ্জয় ঘোষ তাঁর ‘যোজনগন্ধা’ ছবিতে মহাভারতের শক্তিশালী নারীচরিত্রের ছায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন আধুনিক সমাজের নারীদের সংগ্রাম।
নেটপ্যাক প্রতিযোগিতায় মনোনীত এই ছবিটি কেবল পুরাণ নয়, বরং বাস্তবেরও প্রতিচ্ছবি।
পরিচালকের কথায়,
“মহাভারতের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত নারীকে নিজের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। তাই প্রতিটি নারীই আমার চোখে এক এক ‘যোজনগন্ধা’। ”

https://youtu.be/7-z6Tk3fNO8?si=8iGypNI1f_J0SZaU

CLICK HERE TO WATCH 👆

বলিভিয়ার পরিচালক আলভারো ওলমস টরিকো — মাটি, সুর আর মায়ের গল্প

বলিভিয়ার সিনেমা ছোট হলেও তা সেখানকার সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিফলন।
পরিচালক আলভারো ওলমস টরিকো তাঁর ছবিতে এক আদিবাসী মা ও দত্তক নেওয়া মেয়ের সম্পর্কের গল্প বলেছেন।
মা চান মেয়েকে শেখাতে ঐতিহ্যবাহী পল্লীগীতি, কিন্তু মেয়ের স্বপ্ন শহরের আলোয় নাম কুড়োনো।
এই দুই প্রজন্মের টানাপোড়েন, আধুনিকতা বনাম মাটির টান— এই সংঘাতেই ফুটে উঠেছে মানুষের গল্প, যা যেকোনও সংস্কৃতির দর্শক সহজেই অনুভব করতে পারেন।

সৌরভ ভদ্রের ‘দশ অবতার তাস’ — হারিয়ে যাওয়া লোকশিল্পের দলিল

ভারতের ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত সৌরভ ভদ্রর ‘দশ অবতার তাস’ ছবিটি তুলে ধরেছে বাংলার এক বিলুপ্তপ্রায় শিল্পের কথা।
৫০ বছর বয়সি শিল্পী শীতল ফৌজদার আজও একা হাতে বাঁচিয়ে রেখেছেন এই প্রাচীন তাসনাট্য ঐতিহ্য।
পরিচালকের কথায়,
“হয়তো আগামী প্রজন্ম এই শিল্প জানবে না, কিন্তু সেলুলয়েডে এটি থেকে যাবে ইতিহাস হয়ে।”

রাজা চন্দের ‘হালুম’ — শীর্ষেন্দুর গল্পে নতুন প্রাণ

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্প ‘বাঘু মান্নার বরাত’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে পরিচালক রাজা চন্দর ‘হালুম’, যা প্রদর্শিত হয়েছে বেঙ্গলি প্যানোরামা প্রতিযোগিতায়।
অভিনয়ে রয়েছেন সত্যম ভট্টাচার্য, পারিজাত চৌধুরী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, চন্দন সেন, সায়ন, পিয়ান সরকার প্রমুখ।
পরিচালক রাজা চন্দ জানালেন,
“বাণিজ্যিক ছবির বাইরে সাহিত্যভিত্তিক গল্পে কাজ করতে সবসময়ই টান অনুভব করি। হালুম আমার কাছে এক অন্যরকম অনুভব।”

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের নব্বই তম জন্মদিনে তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই শুরু হয়েছিল ‘হালুম’-এর যাত্রা।

https://youtu.be/g0BLu2D7qHc CLICK HERE TO WATCH 👆   https://youtu.be/yNCBEEDeLwg?si=e-Ok5cJbE0LOp4hR CLICK HERE TO WATCH 👆       https://youtu.be/KRUkH8vUiQ4

CLICK HERE TO WATCH 👆

    https://youtu.be/ph-cfkBNPbY?si=kdH5zYPKseRFvwq5
CLICK HERE TO WATCH 👆

    https://youtu.be/8D6FI5E4XOg

CLICK HERE TO WATCH 👆

নন্দন চত্বরে উৎসবের মেলায় তারকাদের মিলন

উৎসব মানেই নন্দন চত্বর। সকাল থেকে সন্ধ্যা, দর্শক আর শিল্পীর মেলবন্ধনে ভরে উঠছে প্রাঙ্গণ।
এই ভিড়ে দেখা মিলল অভিনেত্রী দেবলিনা মজুমদার-এর।
তিনি কলকাতা টাইমস নিউজকে বলেন,
“কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই এখানে চলে আসি। KIFF আমার কাছে মানেই নতুন গল্প, নতুন মানুষ, আর এক অদ্ভুত আনন্দ।”

 সিনেমার ভাষায় এক বিশ্ব, এক আবেগ

সার্বিয়া, বলিভিয়া, পোল্যান্ড, তুরস্ক বা ভারত—
সবাই এক সূত্রে বাঁধা পড়েছে সিনেমার জাদুতে।
এ যেন পৃথিবীর প্রতিটি মনের মধ্যে তৈরি হওয়া এক অভিন্ন সংলাপ,
যেখানে ভাষা নয়, আবেগই প্রধান মাধ্যম।
সিনেমার ভাষায় পৃথিবী একটাই দেশ, আর সেই সংলাপের অনুবাদক কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।