কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২১ ডিসেম্বর

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে বাঙালির স্বাদ-গন্ধ: ভাজাভুজি, পাতলা মুরগির ঝোল থেকে পাঁঠার কষা

বাংলার রেলযাত্রীদের মুখে হাসি ফুটতে চলেছে নতুন বছরে। দূরপাল্লার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে এ বার সাজছে বাংলা’র স্বাদে ভরা থালা—আলু–পটল ভাজা, আলু–ফুলকপির তরকারি, মুরগির পাতলা ঝোল এবং বিকল্প হিসেবে পাঁঠার কষা মাংসও থাকবে মেনুতে। রেল বোর্ড বৃহস্পতিবার এই মর্মে একটি নোটিস জারি করেছে, যা ইতিমধ্যেই যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

রেল সূত্রে খবর, ১ জানুয়ারি থেকেই নতুন এই আঞ্চলিক মেনু পাওয়া যেতে পারে। তবে আইআরসিটিসি-র হাতে চূড়ান্ত অর্ডার শুক্রবার রাত পর্যন্ত পৌঁছয়নি। তবুও রেল মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ বার্তা—নতুন বছরের শুরুতেই বাংলা, বিহার ও ওডিশা—এই তিন রাজ্যের যাত্রীরা আঞ্চলিক স্বাদের খাবার পেতে চলেছেন।

আইআরসিটিসি-র উপদেষ্টা এবং রেল দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ডিরেক্টর প্রসেনজিৎ পট্টনায়ক জানালেন, রেলমন্ত্রী তাশিনী বৈম্ভর প্রতিটি রাজ্যের ট্রেনে তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক খাবার পরিবেশনের ওপর জোর দিচ্ছেন। ফলে ‘লোকালাইজেশন’ এখন রেলের খাদ্যনীতির অন্যতম লক্ষ্য।

কোন রুটে কী খাবার ? বাংলা–বিহার–ওডিশার নতুন রেল-থালা

হাওড়া–নিউ জলপাইগুড়ি রুট

  • আলু–পটল ভাজা

  • পাতলা মুরগির ঝোল

  • বিকল্প: পাঁঠার কষা

  • সঙ্গে নিয়মিত ভাত, ডাল, আচার ইত্যাদি

হাওড়া–পুরী রুট

  • আলু–পটল ভাজা

  • আলু–ফুলকপির তরকারি

  • পনিরের সংযোজন

হাওড়া–রাউলকেল্লা রুট

  • পনিরের বিশেষ প্রস্তুতি

  • ভাজা ও ডাল–ভাতের সংমিশ্রণ

বিহার–হাওড়া বন্দে ভারত

  • বিহারের জনপ্রিয় চম্পারণ চিকেন থাকবে মূল আকর্ষণ

অর্থাৎ, যাত্রীরা নিজ রাজ্যের স্বাদ যেমন পাবেন, বাংলায় যাতায়াতের সময়ও মিলবে বাঙালির প্রিয় মেনু।

বাংলায় সামনে বিধানসভা নির্বাচন—ঠিক সেই সময়েই বাঙালির স্বাদ-গন্ধে সাজানো মেনু। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা জোরালো। রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় ও বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন,
“বাংলায় ভোটের আগে বাঙালির খাবারে জোর—এটা কেন্দ্রের কৌশল বলেই মনে হচ্ছে।”

তবে পূর্ব রেলের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক দাবি করেছেন—এটির সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। রেলের লক্ষ্য একটাই—‘স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে যাত্রীদের সম্পর্ক আরও মজবুত করা’।

আইআরসিটিসি-র এক কর্তা যোগ করেছেন,“যাত্রীদের চাহিদা ও খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করেই রাজ্যভিত্তিক মেনু চালু করা হচ্ছে।”

বন্দে ভারতে নিয়মিত যাতায়াতকারী ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী দুর্গাশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন,
“এখন যে চিকেন কারি দেওয়া হয়, তাতে ভাত মেখে খাওয়ার মতো ঝোল থাকে না। পাতলা ঝোল এলে ভালো হবে। আলু–পটলের মতো ভাজা থাকলে তো বাঙালিদের মনই ভরে যাবে।”

এর আগে যাত্রীদের অভিযোগ ছিল—‘বন্দে ভারত’-এর খাবারে বৈচিত্রের অভাব ও আঞ্চলিকতার ঘাটতি। নতুন এই মেনু সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান করতে পারে বলেই মনে করছেন রেলযাত্রীরা।

অন্যদিকে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি রাজ্যেই ট্রেনের খাবারে থাকবে স্থানীয় স্বাদ—যেমন:

  • মহারাষ্ট্রে পোহা, উপমা

  • দক্ষিণ ভারতে দোসা, ইডলি

  • পাঞ্জাবে লস্যি, রাজমা

  • বাংলায় লুচি, ভাজা, পাতলা ঝোল, পাঁঠার কষা

রেলের ধারণা, আঞ্চলিক খাবার হলে যাত্রীরা শুধু সন্তুষ্ট হবেন না, সেই রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে ট্রেনে থেকেই পরিচিত হবেন।

নতুন বছরের শুরুতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ‘বঙ্গীয় স্বাদ’ শুধু খাবার পরিবর্তন নয়—এটি রেলের যাত্রীবান্ধবতার নতুন অধ্যায়। আঞ্চলিকতার সুখাদ্যে সাজানো প্লেট, ভাজাভুজি থেকে পাঁঠার মাংস—এ সবই বাঙালির ট্রেনযাত্রাকে আরও আনন্দময় করবে বলে আশা রেলবিভাগের।