কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৫ নভেম্বর

কলকাতার পুলিশ মানচিত্রে কার্যত এক “বড় সার্জারি”! লালবাজারের নির্দেশে বদলে গেল একাধিক থানার সীমানা — বিশেষত আলিপুর ও পার্ক স্ট্রিট থানার আওতা। শহরের সাম্প্রতিক দুটি রহস্যজনক অপরাধের পরেই এই পদক্ষেপ।

সম্প্রতি একদিকে পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলে নৃশংস খুন, অন্যদিকে আলিপুরে এক নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু — এই দুই ঘটনায় টালমাটাল হয়ে উঠেছিল শহরের আইনশৃঙ্খলা। এর পরেই পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা সিদ্ধান্ত নেন, শহরের কিছু থানার সীমারেখা পুনর্নির্ধারণ করা হবে, যাতে নজরদারি আরও জোরদার হয় এবং দায়িত্বের ক্ষেত্রগুলি স্পষ্ট হয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য — একবালপুর থানার ভবন নিজেই এখন আলিপুর থানার অধীনে! অর্থাৎ, একবালপুর থানার গেটের সামনেই যদি কোনও অপরাধ ঘটে, সেই ঘটনার তদন্ত করবে আলিপুর থানা। পুলিশ মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে বলছেন “প্রশাসনিক বাস্তবতা”, তবে শহরবাসীর মধ্যে তা নিয়েই চলছে চর্চা।

সূত্রের খবর, নিউ মার্কেট, একবালপুর ও ওয়াটগঞ্জ থানার বেশ কিছু অংশ এখন থেকে যথাক্রমে পার্ক স্ট্রিট ও আলিপুর থানার অধীনে চলে যাচ্ছে।
এতদিন ভারতীয় জাদুঘর, সদর স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট ও কুই লেন ছিল নিউ মার্কেট থানার অধীনে। কিন্তু পুলিশের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সব এলাকা পার্ক স্ট্রিট থেকে অনেক বেশি সহজে ‘অ্যাক্সেসিবল’।

ধর্মতলা ও লেনিন সরণি সংলগ্ন এলাকায় সারাবছরই নিউ মার্কেট থানার বিশাল ফোর্স আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকে। ফলে জাদুঘর ও তার আশপাশে নজরদারিতে ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল। সেই কারণেই পার্ক স্ট্রিট থানাকে আরও অ্যাকটিভ জোনে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদ-এর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে — নিউ মার্কেট থানার প্রায় ৬০০ বর্গমিটার এলাকা এখন থেকে পার্ক স্ট্রিট থানার অধীনে আসবে।

অন্যদিকে, আলিপুর থানার মানচিত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে চিড়িয়াখানার সামনের রাস্তাটুকু পর্যন্তই ছিল আলিপুর থানা। এখন চিড়িয়াখানার ভেতরের অংশও এসে পড়েছে তার অধীনে।
সঙ্গে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা — জিরাট ব্রিজ, খিদিরপুর বাজার, মনসাতলা লেন, একবালপুর রোড — সবই এখন আলিপুর থানার অন্তর্ভুক্ত।

পুলিশের এক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন, “নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্যই এই পুনর্বিন্যাস। এখন প্রতিটি থানা আরও নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্ব পাবে।”
তবে একবালপুর থানার ভবনই অন্য থানার এলাকায় চলে যাওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে কৌতূহল ও প্রশ্ন — “তাহলে যদি থানার সামনে অপরাধ ঘটে, পুলিশ কাকে ডাকবে?”

পুলিশ কর্তারা যদিও বলছেন, এটি শুধুমাত্র অপারেশনাল রিডিফিনিশন, বাস্তবিক কাজের ক্ষেত্রে কোনও বিভ্রান্তি হবে না। তবে লালবাজারের এই সিদ্ধান্ত যে কলকাতার পুলিশ প্রশাসনে নতুন অধ্যায় খুলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

একাধিক বড় অপরাধের পর কলকাতা পুলিশের এই ভূগোল পরিবর্তন শহরের নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আলিপুর ও পার্ক স্ট্রিট থানা এখন হয়ে উঠছে কলকাতার নতুন ‘কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বলয়’।