কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১১ ডিসেম্বর

কেন্দ্র–রাজ্যকে নোটিস, ১৭ ডিসেম্বর মূল মামলার শুনানির সম্ভাবনা !

কলকাতার অন্যতম ঐতিহাসিক তীর্থস্থান দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির—এবার তার মালিকানা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠল আদালতে। মন্দির কি সাধারণ মানুষের সম্পত্তি, নাকি ট্রাস্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি—এই মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই বুধবার (১০ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হলো কলকাতা হাইকোর্টে নতুন শুনানি। প্রায় দু’বছর স্থবির হয়ে থাকা মামলাটি ফের গতি পেল বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে স্থানান্তরের মাধ্যমে।

দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অর্থনৈতিক কাঠামো, ট্রাস্ট পরিচালনা ও সম্পত্তির মালিকানা।
২০২২ সালে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ ছিল—

  • কেন্দ্র ও রাজ্য থেকে পাওয়া আর্থিক অনুদানের সঠিক হিসাব নাকি নেই

  • মন্দির চত্বরে দোকান বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম

  • ট্রাস্টি কমিটির নির্বাচন ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত জানতে চায়—মন্দির আসলে পাবলিক প্রপার্টি নাকি পার্সোনাল প্রপার্টি?
এই নির্ধারণই ভবিষ্যতে মন্দির পরিচালনার আইনগত কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।

অন্যদিকে আদালত বুধবার নির্দেশ দিয়েছে—

  • কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠাতে হবে

  • তারা অতীতে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরকে কোনও আর্থিক অনুদান দিয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দিতে হবে

  • সেই রিপোর্টই ১৭ ডিসেম্বরের মূল শুনানির ভিত্তি হবে

এই নির্দেশ মামলার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ সরকারি অনুদান পাওয়ার প্রমাণ থাকলে মন্দিরকে “জনসাধারণের সম্পত্তি” হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া সহজতর হতে পারে।

যদিও ২০২২ সালের জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছিল—

  • গত কয়েক বছরে বহু কোটি টাকা মন্দির পেয়েছে বিভিন্ন সরকারি খাত থেকে

  • কিন্তু সেই বিপুল অঙ্কের অডিট রিপোর্ট বা হিসাব রক্ষণ আদালতে দাখিল হয়নি

  • মন্দিরের দোকান বরাদ্দ, জমি ব্যবহার ও বাণিজ্যিক অনুমতি নিয়েও অভিযোগ জমা পড়ে

মামলাকারীরা আদালতে দাবি করেন, “দক্ষিণেশ্বর মন্দির প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের পুণ্যস্থল। এই বিশাল সংস্থার পরিচালনা স্বচ্ছ না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।”

অপরদিকে মন্দির ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে—

  • সব হিসাব নিয়ম মেনে রাখা হয়েছে

  • যে অনুদান পাওয়া হয়েছে সেটি ব্যয় করা হয়েছে মন্দির উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোতে

  • অভিযোগগুলি “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”

তবে আদালত এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে রাজি হয়নি।
সব রিপোর্ট সংগ্রহ করে, ১৭ ডিসেম্বর বিস্তারিত শুনানি করবে বেঞ্চ।

অথেব এখন বোঝার বিষয় এই মামলার গুরুত্ব কোথায় ?এক কোথায় বলা যায় এটি শুধু একটি মন্দির ব্যবস্থাপনা নিয়ে মামলা নয়। এর ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে বিস্তারিত ভাবে :

  • ধর্মীয় ট্রাস্ট পরিচালনার স্বচ্ছতায়

  • বৃহৎ মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক তদারকিতে

  • সরকারি অনুদান ব্যবহারের নীতিমালায়

অন্যদিকে আইনজীবীরা মনে করছেন ,এটি পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্দির-সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা হয়ে উঠতে পারে।