কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৫ ডিসেম্বর

নতুন বছর পড়তে না-পড়তেই ভোটের ময়দানে নামতে চলেছেন Abhishek Banerjee। তৃণমূল সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই জেলা সফর শুরু করবেন তিনি। আর সেই অভিযানের সূচনা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ থেকে। কর্মসূচির ধরন—জনসভা না কি রোড শো—তা নিয়ে এখনও শেষ মুহূর্তের হিসেবনিকেশ চলছে দলের অন্দরমহলে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে উত্তরবঙ্গ বরাবরই কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই নতুন বছরের রাজনৈতিক অভিযানের প্রথম অধ্যায় শুরু হচ্ছে এই অঞ্চল থেকেই। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৩ জানুয়ারি অভিষেকের সফর শুরু হতে পারে Jalpaiguri থেকে। একই দিনে তাঁর কর্মসূচি রয়েছে Alipurduar-এও।
এর পরের দিনগুলোতে Cooch Behar বা Darjeeling—কোন জেলায় কবে যাবেন, তা বুধবার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। আবার উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সূত্রের দাবি, ৭ জানুয়ারি Itahar-এ অভিষেকের কর্মসূচি রয়েছে।

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের আগে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ‘নবজোয়ার’ যাত্রা করেছিলেন অভিষেক। তবে এবারে সেই ধাঁচে টানা দীর্ঘ সফর হচ্ছে না। কোথাও ছোট জনসভা, কোথাও রোড শো—এভাবেই ছক কষা হচ্ছে।
দলের এক প্রথম সারির নেতা জানাচ্ছেন, জানুয়ারি মাসে বহু জেলায় স্থানীয় উৎসব থাকে। সেই সব উৎসবের সঙ্গে তাল মিলিয়েই কর্মসূচি সাজাতে হচ্ছে। তাই সূচি চূড়ান্ত করতে একটু সময় লাগছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাছাকাছি কয়েকটি জেলা মিলিয়ে কর্মসূচি সেরে তিনি কলকাতায় ফিরবেন। এক-দু’দিন বিরতি নিয়ে আবার সফরে যাবেন। অতীতে যেমন পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটের সময় একদিকে জেলা সফর, অন্যদিকে কলকাতায় সংগঠনের কাজ—দু’টোই একসঙ্গে সামলেছিলেন অভিষেক, এবারও সেই ছকেই এগোতে চান তিনি।

জানুয়ারির মাঠে নামার আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন অভিষেক। প্রথম বৈঠকটি হবে শুক্রবার। বিষয়—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। রাজ্যের সব বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি চাইছেন তিনি।

এই বৈঠকে গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী ১০ বছরের লক্ষ্য কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, তার দিশা দেবেন অভিষেক।

পরের বৈঠকটি হবে রবিবার। সেখানে মূল আলোচ্য বিষয়—SIR (Special Intensive Revision)-এর দ্বিতীয় পর্বে দলের করণীয়। এই ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রায় এক লক্ষ নেতা-কর্মীর উপস্থিতি চাইছেন তিনি। এর আগেও SIR শুরুর আগে ও চলাকালীন একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠক করে জেলা ধরে ধরে খামতি চিহ্নিত করেছিলেন অভিষেক। শেষ ১৫ দিনে ১৩ জন নেতাকে ব্যাগ গুছিয়ে জেলায় পাঠানো হয়েছিল। রবিবারের বৈঠকে সেই কাজের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, নতুন বছরের শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন অভিষেক—ভোটের লড়াই শুরু হয়ে গেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়বে গোটা রাজ্যে। কর্মসূচির শেষ ছক চূড়ান্ত হলেই, জনসভা আর রোড শোর ক্যালেন্ডার প্রকাশ্যে আসবে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেদিকেই।