কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২১ ডিসেম্বর

অবসর কাটতেই বাংলো খালি করার নির্দেশ—বিতর্কে সিকিম হাইকোর্ট !

সদ্য অবসর নেওয়া বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের জন্মদিনের সকালটি যেন পরিণত হল তীব্র অপমানের এক দিনে। ১৪ ডিসেম্বর রাত ১২টায় অবসর, পরদিন ভোর থেকেই একে একে সরানো হল তাঁর সরকারি বাংলোর সমস্ত কর্মী—নিরাপত্তারক্ষী,রান্নার কর্মী,পিএসও,সরকারি গাড়ি ও চালক—সবাইকে। এমনকি তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়—৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বাংলো খালি করতে হবে। যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, দেশের যে কোনও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অবসরের পর কমপক্ষে তিন মাস ওই সরকারি বাংলোতে থাকার অনুমতি পান। কয়েকটি রাজ্যে এই মেয়াদ ছ’মাসও।

তাই এই আচরণকে বিচারপতি সমাদ্দারের প্রতি সরাসরি ‘অপমান’ ও ‘হেনস্থা’ বলেই দেখছেন আইনজগতের একাংশ।

সিকিম হাইকোর্টের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মীনাক্ষী মদন রাই দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ—বিচারপতি সমাদ্দারের বাংলোর সমস্ত সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ তিনিই দেন,হাইকোর্টের রেজিস্ট্রি থেকে জেলা আদালত পর্যন্ত ব্যাপক বদল ও দায়িত্ব বণ্টন করেন,গত ৭ বছরে হাইকোর্টের সমস্ত প্রশাসনিক নির্দেশ অডিট করার প্রস্তাবও তোলেন।আইনজীবীদের দাবি, এ সবই পূর্বসূরিদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা এবং একধরনের ক্ষমতার প্রদর্শন।এই পরিস্থিতি দ্রুত দেশের শীর্ষ আদালতের নজরে আসে।

পরের দিনই সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মীনাক্ষী রাইয়ের সমস্ত নির্দেশ স্থগিত করে দেয়।
ফলে—বিচারপতি সমাদ্দারের বাংলো খালি করার নির্দেশ বাতিল,নিরাপত্তা ও কর্মীসংক্রান্ত সব সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া হয়,সরকারি প্রটোকলও পুনর্বহাল করা হয়। অর্থাৎ দু’দিনের মধ্যেই বিচারপতি সমাদ্দার তাঁর সমস্ত পূর্বাধিকার ফিরে পেলেন।

১৫ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বিচারপতির জন্মদিনের সকালেই সরকারি কর্মীরা সরিয়ে নেওয়ায় আকস্মিক সমস্যায় পড়েন তিনি।তাঁর স্ত্রী, মেয়ে এবং কলকাতা থেকে যাওয়া রান্নার কর্মী উপস্থিত থাকলেও, সরকারি ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় ব্যক্তিগত লোকবলকেই।

আইনজীবীদের মতে,“এটি শুধু অমানবিক নয়, বিচারব্যবস্থার মর্যাদার পরিপন্থী।”

২০২১ সালে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরই সিকিমের নিম্ন আদালতে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে নিয়োগ করেন বিচারপতি মীনাক্ষী রাই—এমন অভিযোগ ওঠে। বিচারপতি সমাদ্দার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পাঠান।

সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের আমলে সেই চিঠি কীভাবে যেন ফাঁস হয়ে যায়।
আইনমহলের মতে, সেই থেকেই দু’জনের সম্পর্ক তিক্ত। ১২ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অপমান করার ঘটনাও সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছিল।

এই ঘটনার পরেই বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট পাঁচটি রাজ্যের পাঁচ নতুন প্রধান বিচারপতির নাম সুপারিশ করে।সিকিমের জন্য নতুন প্রধান বিচারপতি কেরালা হাইকোর্ট থেকে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।ফলে বিচারপতি রাইয়ের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ।

শুক্রবার তিনি বলেন—“সিস্টেমের উপরে আমার ভরসা ছিল, আছে। শীর্ষ আদালত যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাকে সম্মান জানাই।”

আইনমহলের মতে, এই ঘটনার ফলে বিচারবিভাগের অভ্যন্তরীণ নীতি, আচরণবিধি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।