কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৮ নভেম্বর
কেন্দ্রের নতুন ওয়াকফ সংশোধন আইন ২০২৫ (Waqf Amendment Act 2025) নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি বাংলায় এই আইন কার্যকর হতে দেবেন না। কিন্তু আইন কার্যকর হওয়ার পর এবং আদালতে পর্যাপ্ত স্বস্তি না-মেলায় শেষ পর্যন্ত সেই আইনই কার্যকর করতে বাধ্য হল নবান্ন।
জেলাশাসকদের পাঠানো সরকারি নির্দেশ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব ডঃ পি. বি. সালিম জেলাশাসকদের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতেই জানানো হয়েছে—
রাজ্যের সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির খতিয়ান
প্রতিটি জেলা ধরে ধরে সম্পত্তির সঠিক বিবরণ
এগুলি ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে কেন্দ্রীয় পোর্টাল ‘umeedminority.gov.in’-এ আপলোড করতে হবে
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—এটি কেন্দ্রের বাধ্যতামূলক নির্দেশ। সময়সীমা অতিক্রম করলে রাজ্যের অসহযোগিতা ধরা পড়বে।
বাংলায় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা প্রায় ৩০–৩৩ শতাংশ। ওয়াকফ সংশোধন আইন নিয়ে রাজ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল, যার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও ছিল স্পষ্ট।
গত ৯ এপ্রিল এক জৈন সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন—
“বাংলায় ওয়াক্ফ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট কার্যকর হতে দেব না। মুসলমানদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ চলতে দেব না।” তিনি আরও বলেন— “৩৩ শতাংশ মুসলিমের সুরক্ষা দেওয়া আমার কর্তব্য।”
তবে সেই রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব আইনি পরিস্থিতির সংঘাত তৈরি হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের আবেদন খারিজ করায় নবান্ন আর কোনও বিকল্প পেল না।
নতুন আইনে কী রয়েছে
২০২৫ সালের শুরুতে সংসদের দুই কক্ষে পাশ হয় ওয়াকফ সংশোধন বিল। সংশোধিত আইনে—
ওয়াকফ বোর্ড ও ট্রাইব্যুনালে অ-মুসলিম সদস্যের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক
কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ দাবি করতে হলে প্রমাণপত্র দেখাতে হবে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার
সব ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক
আইনের 3B ধারা অনুযায়ী, দেশের সব নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য বাস্তবায়নের ৬ মাসের মধ্যে আপলোড করতে হবে। শেষ তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৫।
পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তির পরিমাণ
জেলাশাসকদের পাঠানো চিঠি অনুযায়ী—
পশ্চিমবঙ্গে ৮২,০০০-এর বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে
এগুলি ৮,০০০-এরও বেশি ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে
তথ্য আপলোড করবেন সংশ্লিষ্ট মুতাওয়াল্লিরা (Maker হিসাবে)
জেলাগুলির জন্য আট দফা নির্দেশ
১. মুতাওয়াল্লি, ইমাম, মোয়াজ্জিন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে আপলোড-প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে হবে ২. কেবল অ-বিতর্কিত সম্পত্তির তথ্য আপলোড করতে হবে ৩. প্রযুক্তিগত সহায়তায় Facilitation Centre গড়ে তুলতে হবে ৪. রাজ্যস্তরের সিনিয়র অফিসাররা জেলা পরিদর্শন করবেন ৫. প্রতিটি কাজের জন্য স্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে ৬. অফিসারদের নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ ৭. আটটি জেলায় হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে, বাকি জেলাগুলিকে তা করতে হবে ৮. প্রতিদিন দুপুর ২–৪টা পর্যন্ত VC মোডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে—
“সময় কম। লক্ষ্য পূরণে জেলাশাসকদের নিজস্ব তদারকি অত্যন্ত জরুরি।”
ডেডলাইনের আগে হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। ফলে জেলাস্তরে তড়িঘড়ি কাজের চাপ বাড়বে বলেই প্রশাসনের একাংশের আশঙ্কা। এত বড় পরিমাণ সম্পত্তির তথ্য আপলোড করা সময়সাপেক্ষ কাজ—এ কথা আমলাদের একাংশও স্বীকার করছেন।
Comments (0)