কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৩ ডিসেম্বর
রাজ্যে একের পর এক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের আবহে ফের চাঞ্চল্য। Kolkata Police–এ কনস্টেবল পদে নিয়োগের পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম সুতপা হালদার ও জাকির মণ্ডল। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমায়, রবিবার অনুষ্ঠিত কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল পদের লিখিত পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে।
রবিবার সকালে মঙ্গলকোটের কুলসোনা গ্রামের বাসিন্দা সুতপা হালদার পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন দাঁইহাট বালিকা বিদ্যালয়ে। নিয়মমাফিক পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে তল্লাশি চলাকালীন কর্তব্যরত কর্মীদের সন্দেহ হয়। তল্লাশি করতেই সুতপার মোজার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় একটি লেখা উত্তরপত্র।
এই ঘটনাতেই সঙ্গে সঙ্গে সুতপাকে আটক করা হয় এবং খবর দেওয়া হয় Katwa Police Station-কে। পরীক্ষাকেন্দ্রেই শুরু হয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশি জেরায় সুতপা জানান, এই উত্তরপত্রটি তাঁকে দিয়েছিলেন কাটোয়ার মুল্টি গ্রামের বাসিন্দা জাকির মণ্ডল। তদন্তে জানা যায়, সুতপা ও জাকির দু’জনেই কাটোয়ার কাছারি রোডের একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিতেন।
জাকিরও একই দিনে কনস্টেবল পদের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল পূর্বস্থলী বালিকা বিদ্যালয়। সুতপার অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার আগে জাকিরই উত্তরপত্র সরবরাহ করেছিলেন।
সুতপার বয়ানের ভিত্তিতে রবিবার গভীর রাতেই মুল্টি গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় জাকির মণ্ডলকে। দু’জনকেই আটক করে কাটোয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
জাকিরের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা কার্যত চমকে যান। সূত্রের খবর, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ থেকে একাধিক পরীক্ষার উত্তরপত্র উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের অনুমান, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এর পিছনে সক্রিয় একটি বড় জালিয়াতি চক্র কাজ করছে।
এই চক্রে কোচিং সেন্টারের ভূমিকা রয়েছে কি না, আরও কত পরীক্ষার্থী এতে জড়িত, আগের কোনও পরীক্ষায় এই পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে নিয়োগ পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে। একদিকে যেখানে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী কঠোর পরিশ্রম করে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখছেন, সেখানে এ ধরনের জালিয়াতি সেই বিশ্বাসে আঘাত করছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের আদালতে তোলা হবে এবং গোটা চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে তদন্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে।
Continue With Google
Comments (0)