কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৪ নভেম্বর
ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রচারে অভিনব পন্থা নিল নির্বাচন কমিশন। বাংলার জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপি গায়েন বাঘা বায়েন’-এর চরিত্রগুলোকে ব্যবহার করে কমিশন তৈরি করেছে এক বিশেষ প্রচার অভিযান।
কমিশনের উদ্যোগে তৈরি এই প্রচার ক্যাপসুলে শুন্ডির রাজার ভূমিকায় রয়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। বাঘা বায়েনের চরিত্রে বিশ্বনাথ বসু এবং গুপি গায়েনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নীল ওরফে সুজন মুখোপাধ্যায়।
এই ভিডিওগুলো ইতিমধ্যেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কৌতুকের সুরে গুপী-বাঘা নাগরিকদের জানাচ্ছেন— “BLO বাড়ি এলে কী করবেন, ভোটার তালিকায় নাম যাচাইয়ের সময় কীভাবে অংশ নেবেন, নতুন ভোটাররা কীভাবে নাম তুলবেন।”
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য— ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, যাতে প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের নাম সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ভুয়ো ভোটারদের সংখ্যা কমে।
সূত্রের খবর, কমিশনের পক্ষ থেকে এই তিন অভিনেতাকে জানানো হয়েছে— SIR চলাকালীন সময়ে তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে বা কোনও রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। তবে তিন অভিনেতাই জানিয়েছেন, কমিশনের পক্ষ থেকে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি।
বিশ্বনাথ বসু বলেন,
“কোনও নির্দেশ আসেনি। তাছাড়া আমি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাইও না।”
নীল সুজন মুখোপাধ্যায় বলেন,
“আগেও কমিশনের প্রচারে কাজ করেছি। রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।”
খরাজ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য,
“কমিশনের তরফে কোনও নির্দেশ পাইনি। আমার কাছে এটা কেবলই একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং। এমন এক কাজ করেছি যা জনগণের উপকারে আসবে।”
এর আগেও কমিশন সেলিব্রিটি মুখ ব্যবহার করেছে ভোটার সচেতনতা প্রচারে। উদাহরণস্বরূপ—
অভিনেতা রাজকুমার রাও একসময় ছিলেন কমিশনের নির্বাচনী আইকন। পরে তিনি জানান, চলচ্চিত্রের চুক্তিজনিত কারণে কমিশনের শর্ত মানা সম্ভব হচ্ছে না, তাই সরে দাঁড়ান।
অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠীও “ম্যায় অটল হুঁ” সিনেমার শুটিংয়ের সময় কমিশনের প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে কড়া শর্ত দেখে তিনিও পিছু হটেন।
তবে বর্তমান ক্ষেত্রে এমন কোনও জটিলতার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন খরাজ, বিশ্বনাথ ও নীল।
গুপি-বাঘাকে সামনে এনে কমিশনের এই প্রচারকে অনেকেই বলছেন “লোকসংস্কৃতি ও নাগরিক দায়িত্বের এক দুর্দান্ত মেলবন্ধন।” গান, কৌতুক ও সংলাপের মাধ্যমে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মও আগ্রহ দেখাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ভোটার তালিকা হালনাগাদ নয়, বরং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। মানুষ যেন নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন।”
গুপি-বাঘার সংলাপে হাসি থাকলেও, বার্তা কিন্তু গভীর— “যদি নাম না থাকে ভোটার তালিকায়, তবে গণতন্ত্রের সুরই অসম্পূর্ণ।” কমিশনের এই প্রচার যেন সাধারণ নাগরিককে নতুন করে ভাবতে শেখায়— নিজের নামটি ভোটার তালিকায় আছে তো ?
Comments (0)