কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব প্রতিবেদন  :কলকাতা :২৯ অক্টোবর 


বুধবার সকাল থেকে একটানা বৃষ্টিতে ভিজছে দিঘা। ঝোড়ো হাওয়ার তীব্র দাপটে নোনা হাওয়ায় যেন কাঁপছে উপকূল। অন্ধ্রপ্রদেশে ল্যান্ডফলের আগেই ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ কিছুটা শক্তি হারালেও, তার প্রভাবে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা গুলিতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত। মঙ্গলবার রাতভর টানা বৃষ্টির পরে বুধবার সকাল থেকেই দিঘা কার্যত পর্যটকশূন্য।

দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের তরফে সকাল থেকেই চলছে মাইকিং। পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ঘোষণা করা হচ্ছে, “দয়া করে কেউ সমুদ্রে নামবেন না, জোয়ারের সময় সতর্ক থাকুন।”
পর্যটক, মৎস্যজীবী, এমনকি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হচ্ছে। কারণ, দুপুরের পর জোয়ার বাড়লে সমুদ্রের জল আরও উত্তাল হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, “মঙ্গলবার রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কখনও ঝিমঝিম, আবার হঠাৎই মুষলধারে নামছে। এর সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, যার দাপটে হোটেলের বারান্দায় দাঁড়ানোও কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, “আগাম পূর্বাভাস থাকার কারণে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটাই কম। যারা এসেছেন, তারা এখন হোটেলের ঘরেই সময় কাটাচ্ছেন। বৃষ্টি থামলেই হয়তো একটু বেরোবেন।”

দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের কার্যনির্বাহী আধিকারিক নীলাঞ্জন মণ্ডল বলেন,
“দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদের টিম প্রস্তুত। সিভিক ভলান্টিয়ার, নুলিয়া, পুলিশ—সবাই সমুদ্রের ধারে নজরদারি চালাচ্ছে। মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে যেন কেউ জলে না নামে। নিরাপত্তাই এখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য।”

সূত্রের খবর, সকাল থেকে সমুদ্রের ধারে টহল দিচ্ছে সিভিক ভলান্টিয়াররা। কেউ যদি সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হন, সঙ্গে সঙ্গে হুইসেল বাজিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ—এই সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

দিঘা আজ যেন এক অন্য রূপে—আকাশে ঘন কালো মেঘ, বাতাসে সমুদ্রের গর্জন, রাস্তায় ছিটকে পড়া জলরাশি, আর দূরে নোনা হাওয়ার তীব্র গন্ধ। উৎসবের ছুটিতে ভিড়ের বদলে এখন সেখানে নেমে এসেছে প্রকৃতির নির্জন সৌন্দর্য, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো।