কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :৩০ জুন  ২০২৬

বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নওদার বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের উপর প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়ল। মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে জোড়া সমন ধরিয়ে দিল শক্তিপুর ও রেজিনগর থানার পুলিশ। সাম্প্রতিক দুটি পৃথক জনসভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, সেই ঘটনার তদন্তেই তাঁকে আগামী ৩ ও ৪ জুলাই যথাক্রমে শক্তিপুর এবং রেজিনগর থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ মুর্শিদাবাদের নারকেলবাড়ি ঘাট সংলগ্ন হুমায়ুন কবীরের বাসভবনে যান দুই থানার পুলিশকর্মীরা। তবে সেই সময়ে বিধায়ক বাড়িতে ছিলেন না। তিনি বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন বলে পরিবারের তরফে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর সমনের কপি বাড়িতে রেখে আসেন পুলিশ আধিকারিকেরা।

গত কয়েক দিনে দুটি পৃথক রাজনৈতিক সভায় হুমায়ুন কবীরের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর কিছু মন্তব্য জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইতিমধ্যে শক্তিপুর ও রেজিনগর থানায় পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ওই দুই সভার তিন জন আয়োজককে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এবার তদন্তের পরবর্তী ধাপে সরাসরি বিধায়ককেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতেই হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, সভার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। সেই কারণেই নির্দিষ্ট দিনে থানায় হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রয়োজন হলে আরও তথ্য ও নথিও তাঁর কাছ থেকে চাওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নজরদারি অনেকটাই বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে, হুমায়ুন কবীর বা তাঁর দলের পক্ষ থেকে এই সমন নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তিনি নির্ধারিত দিনে থানায় হাজিরা দেবেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। আপাতত তদন্তের অগ্রগতি এবং বিধায়কের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।