কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :০৮ ডিসেম্বর

কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র–প্রতিরক্ষা–অর্থ–গ্রামোন্নয়ন–তথ্যপ্রচার মন্ত্রকের যুগ্মসচিবদের পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ !

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিখুঁত এবং ভুলমুক্ত করতে তৎপর হল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এবার তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজন শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ আইএএস অফিসারকে যুক্ত করা হল। রাজ্যের পাঁচটি ডিভিশনে তাঁদের পৃথক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—বাংলায় এবার নজরদারি আরও কঠোর হতে চলেছে।

প্রসঙ্গত গত শুক্রবারের বৈঠকেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল—বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এবার কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশ করে কমিশন জানায়, নতুন পাঁচজন পর্যবেক্ষকের প্রধান দায়িত্ব হবে—

  1. কোনও যোগ্য নাগরিক বাদ না পড়েন।

  2. অযোগ্য ব্যক্তি যাতে তালিকায় ঢুকতে না পারেন।

  3. দাবি–আপত্তি, নোটিস নিষ্পত্তি থেকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ—প্রতিটি ধাপে কড়া নজর।

এই পাঁচজন পর্যবেক্ষককে সংবিধানের ধারা ৩২৪(৬) অনুযায়ী নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন।


কোন ডিভিশনে কোন অফিসার পর্যবেক্ষক বিস্তারিত :

মেদিনীপুর ডিভিশন

নিরাজ কুমার বানসোড়, আইএএস
জয়েন্ট সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

প্রেসিডেন্সি ডিভিশন

কুমার রবি কান্ত সিংহ, আইএএস
জয়েন্ট সেক্রেটারি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

মালদহ ডিভিশন

আলোক তিওয়ারি, আইএএস
জয়েন্ট সেক্রেটারি, অর্থ মন্ত্রক

জলপাইগুড়ি ডিভিশন

পঙ্কজ যাদব, আইএএস
জয়েন্ট সেক্রেটারি, গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক

বর্ধমান ডিভিশন

কৃষ্ণ কুমার নিরালা, আইএএস
জয়েন্ট সেক্রেটারি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক

নির্বাচন কমিশন জানায় : 

  • পর্যবেক্ষকরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন জেলায় সফর করবেন।

  • তাঁরা কোনও নির্বাচনী কর্মীকে শংসাপত্র দিতে পারবেন না।

  • কাউকে প্রশংসার যোগ্য মনে হলে প্রস্তাব পাঠাতে পারবেন শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনে।

এ বিষয় কমিশনের বক্তব্য—

  • পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রতি বছরই বিপুল প্রশাসনিক পরিকাঠামো লাগে।

  • এবার ৩০ নভেম্বর ও ২৭ অক্টোবরের নির্দেশিকা অনুযায়ী তালিকা পুনর্বিবেচনাকে আরও নিখুঁত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

  • সমস্ত জেলার কাজের মান একরকম রাখতে ডিভিশনওয়ারি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু।

  • ভুল নাম, মৃত ব্যক্তির নাম বা দ্বৈত অন্তর্ভুক্তি যেন সম্পূর্ণভাবে রোধ করা যায়।

  • নির্বাচন প্রস্তুতির স্বচ্ছতা আরও বাড়ানোই মূল উদ্দেশ্য।

বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের পাঁচ মন্ত্রকের যুগ্মসচিবকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বড় বার্তা বহন করছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা মনে করছেন, এতে—

  • ভুল তালিকা তৈরি রোধ হবে,

  • অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে,

  • আর রাজ্যের ভোটার তালিকা হবে আরও বিশ্বস্ত ও স্বচ্ছ।