কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১১ ডিসেম্বর

ভারতীয় রেলওয়ে এবার ইতিহাস গড়তে চলেছে। রেলের গতিদূত এবার বদলে যাচ্ছে পরিচ্ছন্ন শক্তির ছোঁয়ায়। প্রথমবারের মতো ভারতীয় রেল হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালাতে প্রস্তুত—যা রেল পরিবহণে দূষণহীন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির নতুন পথ খুলে দেবে।
এটি সম্পূর্ণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রযুক্তিতে নির্মিত, যা ভারতকে বিশ্ব মানচিত্রে পরিচ্ছন্ন রেল প্রযুক্তির অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে তুলে ধরবে।

এই তথ্য বুধবার লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

অন্যদিকে রেলমন্ত্রী জানান, ভারতীয় রেলের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন-সেটের উৎপাদন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এই ট্রেনটির বিশেষত্ব—

  • এটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা (১০ কোচ) হাইড্রোজেন ট্রেন সেট

  • সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন—মোট ক্ষমতা ২৪০০ কিলোওয়াট

  • দুইটি Driving Power Car (DPC) — প্রতিটির ক্ষমতা ১২০০ কিলোওয়াট

  • সঙ্গে রয়েছে ৮টি যাত্রীবাহী কোচ

এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, ভারত শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করছে না, বরং বিশ্বে সর্বাধুনিক হাইড্রোজেন ট্রেন প্রযুক্তি তৈরিতে শীর্ষে পৌঁছচ্ছে।

এই ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন সরবরাহ করতে হরিয়ানার জিন্দে নির্মিত হচ্ছে একটি হাইড্রোজেন উৎপাদন প্ল্যান্ট।
এখানে ইলেক্ট্রোলাইসিস পদ্ধতিতে জল ভেঙে উৎপাদিত হবে গ্রিন হাইড্রোজেন—যা ভবিষ্যতের জ্বালানি হিসেবে বিশ্বজুড়ে ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এটি শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, বরং দেশের শক্তি-স্বাধীনতায় এক বড় পদক্ষেপ।

অন্যদিকে হাইড্রোজেন ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—

  • এটি কোনো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গত করে না

  • একমাত্র নির্গত পদার্থ হলো জলীয় বাষ্প, অর্থাৎ এতে বায়ু দূষণ শূন্য

  • ভারতীয় রেলের ভবিষ্যৎ পরিবেশনীতি আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন—এটি পরবর্তী প্রজন্মের জ্বালানি প্রযুক্তিকে ভারতীয় রেলের জন্য উপযোগী করতে প্রথম বাস্তবমুখী প্রয়াস।

অপরদিকে RDSO (Research, Design & Standards Organisation)–এর নির্দেশিকা অনুযায়ী—

  • পুরো ডিজাইন ভারতেই তৈরি

  • প্রোটোটাইপ নির্মাণ, পরীক্ষা এবং প্রযুক্তি উন্নয়ন সবকিছুই “আত্মনির্ভর ভারত”-এর চেতনায় গড়ে ওঠা

  • প্রথমবার ভারতীয় রেলওয়ে নিজস্বভাবে হাইড্রোজেন ট্র্যাকশন প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছে

মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু এটি পাইলট ভিত্তিতে নির্মিত, তাই প্রচলিত বৈদ্যুতিক বা ডিজেল ট্রেনের সঙ্গে খরচ তুলনা করা এখনই ঠিক নয়।

পাশাপসী বিশ্ব যখন পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে এগোচ্ছে, তখন ভারতীয় রেলওয়ের এই প্রকল্প দেশের পরিবহণ ব্যবস্থাকে—

  • সবুজ,

  • দূষণমুক্ত,

  • টেকসই,

  • এবং ভবিষ্যতমুখী

রূপ দেওয়ার শক্তিশালী পদক্ষেপ।

হাইড্রোজেন ট্রেন চালু হলে তা কেবল রেলের ইতিহাসই নয়, ভারতের পরিবেশ নীতিতেও এক বৈপ্লবিক অর্জন হয়ে থাকবে।