কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক :কলকাতা :১৯মার্চ ২০২৬
আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ফের কাঁপতে চলেছে বাংলা। সপ্তাহজুড়ে অস্থির আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পর এবার শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন জুড়ে রাজ্যের একাধিক জেলায় তীব্র ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে অন্তত ১২টি জেলায় ‘কমলা সতর্কতা’ জারি হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা-সহ পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং হুগলিতে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতেও জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার জন্য হলুদ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
আবহবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে একটি সম্ভাব্য ‘স্কোয়াল ফ্রন্ট’-এর সৃষ্টি। এটি মূলত দুই বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া একটি বিশেষ আবহাওয়াগত অবস্থা, যেখানে বায়ুর তীব্র অস্থিরতার কারণে দ্রুত মেঘ সঞ্চালন ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় ঘন কিউমুলোনিম্বাস মেঘ, যা প্রবল বজ্রঝড় ও বৃষ্টির জন্য দায়ী। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কখনও কখনও স্বল্প সময়ের মধ্যে অত্যধিক বৃষ্টিপাত বা ক্লাউডবার্স্টের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে, যদিও এবারের পূর্বাভাসে সে রকম কোনও স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
তবে ঝড়ের তীব্রতা নিয়ে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। শনিবার বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলিতে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্য জেলাগুলিতে এই গতিবেগ ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও প্রবল।
উত্তরবঙ্গেও পরিস্থিতি কম উদ্বেগজনক নয়। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর, যা পাহাড়ি এলাকায় ধস বা জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা জায়গায় না থাকা, বজ্রপাতের সময় গাছের তলায় আশ্রয় না নেওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহণ ক্ষেত্রে এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সপ্তাহান্তে বাংলার আবহাওয়া যে রীতিমতো ভয় ধরানো চেহারা নিতে চলেছে, তা স্পষ্ট। এখন নজর থাকবে, এই পূর্বাভাস কতটা বাস্তবে রূপ নেয় এবং প্রশাসন কতটা প্রস্তুত থাকতে পারে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মোকাবিলায়।
Continue With Google
Comments (0)