পশ্চিম মেদিনীপুরের গ্রামবাংলায় ঋণ-সংক্রান্ত বিবাদ ঘিরে সামনে এল এক ভয়ঙ্কর ও নিন্দনীয় ছবি। সবং ব্লকের দেভোগ গ্রাম পঞ্চায়েতের লুটুনিয়া গ্রামে এক গৃহবধূকে খুঁটিতে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিত মহিলা একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সহ-দলনেত্রী। অভিযোগ, গোষ্ঠীর এক সদস্যা প্রায় দু’ বছর আগে ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ঋণের কিস্তি ও সুদ না মেটানোয় গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে।
অভিযোগকারীদের দাবি,
-
একাধিকবার তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল
-
বিষয়টি পুলিশ-প্রশাসনকেও জানানো হয়েছিল, কিন্তু ফল মেলেনি
-
শেষমেশ ব্যাঙ্ক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়
এই সিদ্ধান্তে গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যরাও সমস্যায় পড়েন।
সোমবার দুপুরে লুটুনিয়া গ্রামে অভিযুক্ত মহিলাকে দেখতে পেয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্যা তাঁকে টানা হেঁচড়া করে একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখেন—এমনটাই অভিযোগ। এরপর তাঁর উপর চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এক সদস্য বলেন, “২৮ বার মিটিং হয়েছে, তবু টাকা দেয়নি। পুলিশ-প্রশাসনকেও জানিয়েছিলাম। সম্প্রতি ব্যাঙ্ক বলেছে ১২ হাজার টাকা না দিলে অ্যাকাউন্ট খুলবে না। ওঁর বাড়ি গেলে পালিয়ে যান। আজ তাই বাধ্য হয়েই বেঁধে রেখেছি।”
খবর পেয়ে সবং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিলাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—আইনের পথ ছেড়ে প্রকাশ্যে এমন অমানবিক শাস্তি কি গ্রহণযোগ্য? নারী নির্যাতন ও বেআইনি আটকের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে।
এ বিষয়ে সবংয়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী Manas Ranjan Bhunia-র কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তৃণমূলের সবং ব্লক সভাপতি ও জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ Abu Kalam Boksh বলেন,
“ঠিক কী ঘটেছে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
অন্যদিকে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি Tanmay Dutta বলেন,
“যাই হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত হয়নি। এটা শোভনীয় নয়।”
জেলা পরিষদের শিশু ও নারী কল্যাণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ Shanti Tudu বলেন,
“পুরো বিষয়টি এখনও খতিয়ে দেখছি। তবে যেটুকু শুনেছি, খুবই নিন্দনীয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
ঋণ ও আর্থিক চাপ থেকে তৈরি হওয়া ক্ষোভ কীভাবে আইন-বহির্ভূত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, সবংয়ের এই ঘটনা তার ভয়াবহ উদাহরণ। তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—সেদিকেই এখন নজর।
Comments (0)