কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৩ ডিসেম্বর
কলকাতার শান্ত আবাসিক এলাকা কসবা ও পর্ণশ্রীর ভিতরেই চলছিল আন্তর্জাতিক প্রতারণার জাল। আমেরিকার নাগরিকদের ফোন করে তাঁদের কম্পিউটারে অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করার নামে রিমোট অ্যাক্সেস নেওয়া, গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং ডলারে মোটা অঙ্কের প্রতারণা—সবই চলছিল ফ্ল্যাটভাড়া নেওয়া ছোট ছোট ঘর থেকে। অবশেষে বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে সাইবার অপরাধ দমন শাখার টানা অভিযানে ধরা পড়ল এই চক্রের আট সদস্য।
শুক্রবার রাতে কসবা থানার নস্করহাট ব্যানার্জি রোডে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশিতে নামে পুলিশ। সেখানে পাওয়া যায় চক্রের প্রথম সন্দেহভাজন—এম সঞ্জয়। প্রথমে সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাঁস হতে থাকে তাঁর প্রতারণার কৌশল।
পুলিশের জেরায় জানা যায়, ৩৯ বছর বয়সি সঞ্জয় আমেরিকার বিভিন্ন নাগরিকের যোগাযোগের তথ্য পেতেন সমাজমাধ্যমের একটি বিশেষ গ্রুপ থেকে। তারপর ফোন করে ভয় দেখাতেন—“আপনার কম্পিউটার বিপজ্জনক ভাইরাসে আক্রান্ত।” সমাধান হিসাবে প্রস্তাব দিতেন “অ্যান্টিভাইরাস আপডেট” সার্ভিস।
এই অজুহাতেই তিনি ভুক্তভোগীদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ রিমোট কন্ট্রোল করতেন এবং তাঁদের গোপন ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করতেন। সেই তথ্য দিয়েই ডলার তুলতেন বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে।
শনিবার ভোরে গ্রেফতার হয় সঞ্জয়। পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে তাঁর মোবাইল, রাউটার ও ল্যাপটপ।
অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে সামনে আসে আরেকটি চক্র। শনিবার গভীর রাতে পর্ণশ্রীর একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়—যা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ বেআইনি কলসেন্টার।
এখান থেকে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তারা আমেরিকার নাগরিকদের ফোন করে নিজেদের পরিচয় দিত একটি আন্তর্জাতিক অ্যান্টিভাইরাস কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে। ভুয়ো নথি পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের কম্পিউটার রিমোটে নিয়ন্ত্রণ করত প্রতারকেরা। এরপর তাঁদের ব্যাংক ও লগ-ইন সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হত।
শুধু ভয় দেখানোই নয়—প্রতারকেরা ভুক্তভোগীদের মনে করিয়ে দিত যে সমস্যা “অতি গুরুতর” এবং সমাধানের জন্য “প্রিমিয়াম টেকনিক্যাল সার্ভিস” নিতে হবে। এখানেই হাতানো হত বিপুল অঙ্কের ডলার।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে ছ’টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ ও বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম।
পুলিশের ধারণা—এই চক্র আন্তর্জাতিক একটি বৃহত্তর জালের অংশ। শুধু কসবা ও পর্ণশ্রী নয়, শহরের অন্যান্য অংশেও একই ধরনের প্রতারণা কেন্দ্র লুকিয়ে থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত টেক সাপোর্ট স্ক্যাম বা ‘ভুয়ো অ্যান্টিভাইরাস প্রতারণা’ আমেরিকায় বহুদিন ধরেই মাথাব্যথার কারণ, কিন্তু কলকাতা থেকে এমন বড় নেটওয়ার্ক পরিচালিত হওয়া উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে পুলিশ।
Continue With Google
Comments (0)