পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আবহ গাঢ় হতেই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব বদলের পর এবার সরিয়ে দেওয়া হল কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও। কমিশনের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। তাঁর জায়গায় নতুন সিপি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ১৯৯৬ সালের ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজয়কুমার নন্দা। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদেও বদল আনা হয়েছে। পীযূষ পাণ্ডের পরিবর্তে ১৯৯২ সালের ব্যাচের আইপিএস সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি ও আইজিপি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
শুধু এখানেই থেমে থাকেনি এই রদবদল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এডিজি (ল’ অ্যান্ড অর্ডার) বিনীত গোয়েলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন ১৯৯৫ সালের ব্যাচের আইপিএস অজয় মুকুন্দ রানাডে। পাশাপাশি ডিজি (কারা) পদে নিয়োগ করা হয়েছে ১৯৯১ সালের ব্যাচের আইপিএস নটরাজন রমেশবাবুকে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যেই নতুন পুলিশ কমিশনার ও ডিজিকে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে।
রবিবার দিল্লি থেকে নির্বাচন ঘোষণা করার সময়ই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং হিংসামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল আনা হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকে সরিয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দুষ্মন্ত নারিওয়াল ও সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। সেই সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, পুলিশের শীর্ষস্তরেও পরিবর্তন আসতে পারে। অবশেষে সোমবার সকালে সেই জল্পনাই বাস্তব রূপ পেল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে প্রশাসনের এই ধরনের রদবদল নতুন কিছু নয়। নির্বাচন কমিশন সাধারণত এমন পদক্ষেপ নেয় যাতে ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ থাকে এবং কোনও রকম প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে। তবে এ বার এত দ্রুত ধারাবাহিক পরিবর্তন হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর সবার। ভোট যত এগিয়ে আসবে, ততই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়বে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Comments (0)