কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৭ ডিসেম্বর

শীতের সকালে গঙ্গাসাগরের পথে পুণ্যস্নানের ডাক। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়, মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের শব্দ আর সমুদ্রের গর্জনে আবারও মুখর হতে চলেছে সাগরদ্বীপ। প্রশাসনের অনুমান, এ বছর এক কোটিরও বেশি পুণ্যার্থী হাজির হতে পারেন Gangasagar Mela-য়। কিন্তু সেই বিপুল সমাগমের আগে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ—মুড়িগঙ্গা নদীর চর।

শুক্রবার সাগরমেলার সব পয়েন্টের পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী Sujit Bose। সঙ্গে ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী Bankim Hazra, জেলা সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি, সহকারী সভাধিপতি শ্রীমন্ত মালি ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

মন্ত্রী জানান,

  • মেলায় থাকবে ১৮টি অস্থায়ী দমকল কেন্দ্র

  • এর মধ্যে ১১টি মেলা প্রাঙ্গণে, বাইরে ৭টি

  • প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫০টির বেশি দমকল ইঞ্জিন

  • দ্রুত পৌঁছনোর জন্য থাকছে বুলেট বাইক, যাতে অগ্নিনির্বাপণের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে

আগুন নেভাতে নদীর জল ছাড়াও জলাধার ও পাইপলাইনের জল ব্যবহার করা হবে। মেলা মাঠ, কচুবেড়িয়া, হারউড পয়েন্ট, বেণুবন ও নামখানা—এই সব জায়গায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের পাইপলাইন যুক্ত করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে প্রায় ৩০০টি অতিরিক্ত জল সংগ্রহ পয়েন্ট।

কচুবেড়িয়ার সব জেটি ও জলাধার ঘুরে দেখেন মন্ত্রীরা।

  • বসানো হয়েছে ১১টি রিজার্ভার, প্রতিটির ক্ষমতা ১ লক্ষ ৩৬ হাজার লিটার

  • কচুবেড়িয়া ও লট নম্বর ৮-এর ১ নম্বর জেটি বাদে বাকি চারটি জেটি দিয়ে পুণ্যার্থীদের পারাপার

  • একটি জেটি রাখা হয়েছে শুধুমাত্র মালবাহী যানবাহনের জন্য

  • পুরো ব্যবস্থার নজরদারিতে থাকবেন ৩১৮ জন আধিকারিক

এর পর কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দেন সুজিত বসু ও বঙ্কিম হাজরা।

মেলার আগে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে মুড়িগঙ্গা নদীর চর। পলি জমে নৌ-চলাচলে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হওয়া ধারাবাহিক ড্রেজিংয়ের সুফল মিলতে শুরু করেছে।

জেলা প্রশাসনের দাবি,

  • একাধিক অতিরিক্ত ড্রেজার নদীতে নামানো হয়েছে

  • জমে থাকা পলি কাটার কাজ জোরকদমে চলছে

  • ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই চরের সমস্যা অনেকটাই মিটবে

এই কারণে মেলা চলাকালীন ২০–২২ ঘণ্টা ভেসেল চলাচল সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

প্রশাসনের অনুমান, এ বছরও গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থীর সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি ছুঁতে পারে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলার সময়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা জানান,
“নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসন নজর রাখছে।”

একদিকে আগুন, ভিড় ও নদীপথের নিরাপত্তা—অন্যদিকে এক কোটির পুণ্যার্থীর প্রত্যাশা। মুড়িগঙ্গার চর কাটার কাজ শেষ হলে গঙ্গাসাগর মেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলেই আশা প্রশাসনের। পুণ্যার্থীদের চোখে এখন একটাই অপেক্ষা—সাগরের জলে ডুব দিয়ে পাপক্ষয় আর নির্বিঘ্ন যাত্রার আশ্বাস।